১৯৭০ সালের নির্বাচন । 1970 সালের নির্বাচনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা

১৯৭০ সালের নির্বাচন (সাধারণ) বিবরণ দাও। এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিজয়ের কারণ। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

১৯৭০ সালের নির্বাচন ছিল অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রথম জাতীয় সাধারণ নির্বাচন। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে নির্বাচনের কথা থাকলেও ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারিতে তা স্থগিত হয়। পরবর্তীতে জেনারেল ইয়াহিয়া খান আইয়ুব খানের কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহণের পর সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের আশ্বাস দিয়ে ১৯৬৯ সালের ২৮ জুলাই নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ এবং নির্বাচনের ঘোষণা দেন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় ও প্রাদেশিক উভয় ক্ষেত্রে অভূতপূর্ণ সফলতা লাভ করে। এই বিজয়ের ফলে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের উপর তাদের কর্তৃত্বের বৈধতা হারায়। অপরদিকে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের পথ প্রশস্ত হয়।

নির্বাচনের সংক্ষিপ্ত পটভূমিঃ  

১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের ঘোষণা থাকলেও শাসকগোষ্ঠী তা অমান্য করে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭ টি আসনের মধ্যে ২২৩ টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে মন্ত্রিসভা গঠন করলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যে পাকিস্তান সরকার মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয়। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান রচিত হয়। কিন্তু এই সংবিধান বাতিল করে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা সামরিক শাসন জারি করেন। ২৭ অক্টোবর তাঁকে উৎখাত করে সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করেন। তার স্বৈরশাসন চলে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত। আইয়ুব খান তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ সালের ২৬ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ইয়াহিয়া খান সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তিবর্গের ভূমিকা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তিবর্গের ভূমিকা।

 

নির্বাচন ব্যবস্থাপনাঃ 

১৯৬৯ সালের ২৮ জুলাই ইয়াহিয়া খানের ঘোষণা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বাঙালি বিচাপতি আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। এই নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক কাজ ছিল একটি ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা। কমিশন পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের ৫৮টি এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৯৬টি নির্বাচনী এলাকায় বিভক্ত করে। পশ্চিম পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের ৩৯টি এবং ৪ টি প্রাদেশিক পরিষদের ৮৯টি নির্বাচনী এলাকায় বিভক্ত করে। ১৯৭০ সালের জুন মাসে উভয় পাকিস্তানের নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকা চুড়ান্ত হয়। এ প্রেক্ষিতে ৭ ডিসেম্বর জাতীয় পরিষদ এবং ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ ধার্য করা হয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানঃ  

১৯৭০ সালের নির্বাচন এ ২৪ টি দল অংশগ্রহণ করে। পাকিস্তানের দুই অংশে মোট ১৮৬৮ জন প্রার্থী জাতীয় পরিষদের ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বেশকিছু নির্দলীয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করে। এর মধ্যে প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দল হচ্ছে- শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামী লীগ, জুলফিকার আলী ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পি.পি.পি)। বাকি উল্লেখযোগ্য দল হচ্ছে- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), মুসলিম লীগের বিভিন্ন গ্রুপ, জামায়াত-ই-ইসলামী, জামিয়াতে উলামা-ই-ইসলাম,  জমিয়াতে উলামা-ই-ইসলাম পাকিস্তান, নিজাম-ই ইসলাম, পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি ইত্যাদি।

নির্বাচনী ইস্যুঃ 

১৯৭০ সালের নির্বাচন এ অংশগ্রহণকারী প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইস্যু ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ “৬ দফা”। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭০ সালের ২৮ অক্টোম্বর রেডিও ও টেলিভিশনে প্রদত্ত ভাষণ এবং নির্বাচনী প্রচার অভিযানকালে এ নির্বাচনকে ৬ দফা কর্মসূচীর উপর গণভোট বলে আখ্যায়িত করেন। অপরদিকে পাকিস্তান পিপলস পার্টির নির্বাচনী স্লোগান ছিল ইসলাম আমাদের বিশ্বাস, গণতন্ত্র আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং সমাজতন্ত্র আমাদের অর্থনীতি। এছাড়া মুসলিম লীগ ও অন্যান্য ইসলামী দল ভারত বিরোধিতা, ইসলামি শাসনকে তাদের নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্ব আরোপ করে।

সতীদাহ প্রথা উৎপত্তি বিলুপ্তি রহিতকরণের ইতিহাস।

নির্বাচনী প্রচারঃ 

১৯৭০ এর নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় বেতার ও টেলিভিশনে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সুযোগ পায়। ২ অক্টোম্বর থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত এ প্রচার অব্যাহত থাকে। নির্বাচনী প্রচারে মূলত আওয়ামী লীগ ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি প্রাধান্য লাভ করে। আওয়ামী লীগ “নৌকা” প্রতীক নিয়ে ঐতিহাসিক “ছয় দফা”র পক্ষে প্রচার শুরু করে। প্রচারাভিযানে এ দলটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আঞ্চলিক ও প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। পাকিস্তানের অপর বৃহত্তর দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির নির্বাচনী প্রচারণার উল্লেখেযোগ্য দিক ছিল শেখ মুজিব ও ৬ দফার বিরুদ্ধাচারণ করা। পূর্ব পাকিস্তানের কিছু রাজনৈতিক দলও আওয়ামিলীগের বিরুদ্ধাচারণ করে প্রচারভিযান চালায়।

নির্বাচনঃ 

১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর জাতীয় পরিষদ এবং ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বন্যাকবলিত পূর্ব বাংলার ৯টি আসনে ১৯৭১ সালের ১৭ই জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনের ফলাফলঃ 

জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬২টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬০টি আসন লাভ করে। বাকি দুইটি আসনে নির্বাচিত হন পিডিপির নুরুল আমিন এবং নির্দলীয় ত্রিদিব রায়। পশ্চিম পাকিস্তানের চারটি প্রদেশের মধ্যে পিপিপি মোট ৮৩টি আসন পায়। সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে ৭৫.১০% ভোট পেয়ে মোট ৩১৩টি আসনের মধ্যে ১৬৭ টি আসন লাভ করে। পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদে ৭০.৪৮% ভোট পেয়ে মোট ৩১০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ মোট ২৯৮টি আসন লাভ করে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পশ্চিমাঞ্চলে এবং পিপিপি পূর্বাঞ্চলে কোন আসন পায়নি।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের কারণঃ 

১৯৭০ সালের নির্বাচন এ কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগের সাফল্য লাভের পেছনে কতগুলো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। যেমন-
১। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ৬ দফাভিত্তিক দাবি পূর্ব বাংলার জনসাধারণের প্রাণের দাবি এবং নির্বাচনের পূর্বেই এসব দাবি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। ফলে নির্বাচনে জনসাধারণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে মূলত তাদের দাবির প্রতি রায় দেয়।
২। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিমাঞ্চলের শাসকগণ নানাভাবে পূর্বাঞ্চলকে শোষণ করেছে। এ শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেকে প্রাণ বিসর্জন দেয়। তাই নির্বাচনে পশ্চিমা দলগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে বাঙ্গালীরা প্রতিশোধ নেয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচন

পরিবার কি? এর প্রকারভেদ এবং আধুনিক সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ

৩। নির্বাচনী প্রচারণায় শেখ মুজিব ইসলামি আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে এ অঞ্চলের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সমর্থন লাভ করেন। তাছাড় নেতা হিসেবে তিনি সবার প্রিয় এবং বক্তা হিসাবে সবার ঊর্ধ্বে। তিনি তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পেরেছিলেন।
৪। ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামের প্রতি অনুগত না হয়েও ইসলামি সমাজতন্ত্রের কথা প্রচার করে পিপিপির ভুট্টো পাকিস্তানের ইসলামপন্থীদের সমর্থন পাননি। অপরদিকে পাকিস্তানের জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল অ-মুসলমান। ফলে তারা ভুট্টোর ইসলামি প্রচারণার বিপরীতে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছিল ।

৬। ভুট্টো সাধারণ মানুষের কল্যাণার্থে সমাজতন্ত্রের কথা ঘোষণা করে পাকিস্তানের পুঁজিপতিদের সমর্থন হারান।
৭। ১৯৭০ সালের নভেম্বর মাসের জলোচ্ছ্বাসে এ অঞ্চলে জান-মালের ব্যাপক ক্ষতিতে মুজিব দুর্গত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও সরকারের ব্যর্থতা প্রচার করে নির্বাচনে সফলতা লাভ করেন।
৮। ভুট্টো এক-ইউনিটের কথা ঘোষণা করে পাঞ্জাবিদের নিকট জনপ্রিয়তা পেলেও পাকিস্তানের অন্যান্য প্রদেশে জনপ্রিয়তা পাননি। ১৯৭০ সালের নির্বাচন

১৯৭০ সালের নির্বাচনের গুরুত্বঃ 

বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের পেছনে বিভিন্ন দিক থেকে এ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

১। বাঙালি স্বাতন্ত্র‍্যবাদের বিজয়ঃ ১৯৪৭ সালের পর থেকেই বাঙালি জাতি ভাষা, সাহিত্য, সংষ্কৃতি সর্বক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র‍্যবাদ দাবি করে আসছিল। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তান নানা উপায়ে তাদেরকে দমিয়ে রেখেছিল। ১৯৭০ সালের এ নির্বাচনে বাঙালির সে স্বাতন্ত্র্যবাদের বিজয় ঘটে।

২। আঞ্চলিক প্রাধান্যঃ এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও পিপিপি আঞ্চলিক প্রাধান্য হারায়। ফলে উভয় দলই এককভাবে কোনো অঞ্চলের উপর কর্তৃত্বের বৈধতা হারায়।

১৯৭০ সালের নির্বাচন
১৯৭০ সালের নির্বাচন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা

৩। স্বায়ত্তশাসনের দাবির বৈধতা প্রমাণঃ বাঙালি জাতি দীর্ঘদিন থেকে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি নিয়ে আন্দোলন করছিল। অবশেষে  নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতি জনগনের রায় বাঙালিদের ৬ দফাভিত্তিক স্বায়ওশাসনের দাবির বৈধতা প্রমাণ করেন।

৪। বাঙালি জাতীয়তাবাদী সুদৃঢ়করণঃ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে পূর্ব বাংলায় যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছিল নির্বাচনে তা আরো সুদৃঢ় হয়।

৫। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে প্রভাবঃ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হওয়া সত্ত্বেও ইয়াহিয়া খান তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইয়াহিয়া খান তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন। বাঙালি জাতি উপলব্ধি করলো যে যুদ্ধের মাধ্যমেই স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে হবে। মূলত ১৯৭০ সালের নির্বাচন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় পথ তৈরি করেছিল। ১৯৭০ সালের নির্বাচন

উপসংহারঃ ১৯৪৭ সালের পর থেকে পুর্ব বাংলার জনগণের উপর পশ্চিম পাকিস্তানীরা যে বৈষম্য ও কুশাসন করে আসছিলো এই নির্বাচনে পরাজয়ের মাধ্যমে তারা এর বৈধতা হারায়। বাঙালি জাতির অস্তিত্ব রক্ষা, স্বায়ত্তশাসনের অধিকার, আঞ্চলিক প্রাধান্যতা, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়, এগুলোর পেছনে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে।

সোর্সঃ 

১) ড মো মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশের ইতিহাস, ১৯৪৭-১৯৭১

২) আবু মো দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।

৩) War and Peace in South Asia

4) Rangalal Sen, Political Elites of Bangladesh ১৯৭০ সালের নির্বাচন

১৯৭০ সালের কত তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?  ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর জাতীয় পরিষদ এবং ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বন্যাকবলিত পূর্ব বাংলার ৯টি আসনে ১৯৭১ সালের ১৭ই জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচন

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল কি ছিল? জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬২টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬০টি আসন লাভ করে। বাকি দুইটি আসনে নির্বাচিত হন পিডিপির নুরুল আমিন এবং নির্দলীয় ত্রিদিব রায়। পশ্চিম পাকিস্তানের চারটি প্রদেশের মধ্যে পিপিপি মোট ৮৩টি আসন পায়। সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে ৭৫.১০% ভোট পেয়ে মোট ৩১৩টি আসনের মধ্যে ১৬৭ টি আসন লাভ করে। পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদে ৭০.৪৮% ভোট পেয়ে মোট ৩১০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ মোট ২৯৮টি আসন লাভ করে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পশ্চিমাঞ্চলে এবং পিপিপি পূর্বাঞ্চলে কোন আসন পায়নি।

 

Leave a Comment