শিল্প বিপ্লব কি? উদ্ভব বিকাশ সময়কাল আলোচনা

আঠারো শতকের শুরুতে ইংল্যান্ড প্রধানত কৃষিপ্রধান দেশ ছিল। এই শতকের শেষ দিকে এসে ইংল্যান্ডে উৎপাদন ক্ষেত্রে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয় শিল্প বিপ্লব নামে পরিচিত। ইউরোপের মধ্যে ইংল্যান্ডেই প্রথম শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হয়। ফলে ইংল্যান্ড বিশ্বের প্রধান শিল্প উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়। আঠারো শতকের শেষে উৎপাদন ব্যবস্থায় হস্তচালিত কুটিরশিল্পের পরিবর্তে মেশিনের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়। হস্তচালিত শিল্প যন্ত্রচালিত শিল্পে পরিণত হয়। নতুন নতুন যন্ত্রের উদ্ভাবন হয়। জনসংখ্যার একটি বড় অংশ নিজেদেরকে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত করার জন্য শহরমুখী হয়। ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের উদ্ভব, শিল্প বিপ্লবের সময়কাল এবং বিস্তার নিম্নে আলোচনা করা হলো।

শিল্প বিপ্লব শব্দটির উৎপত্তি:

 শিল্প বিপ্লবের ইংরেজি প্রতিশব্দ industrial revolution. এটি প্রথম ব্যবহার করেন 1837 সালে ফরাসি সমাজতন্ত্রী নেতা লুই অগাস্তে ব্ল্যাঙ্কি (Louis Auguste Blanqui). 1845 সালে পুনরায় শিল্প বিপ্লব কথাটি ব্যবহার করেন জার্মান সমাজতন্ত্রী দার্শনিক ফ্রেডরিক এঙ্গেলস (Friedrich Engels)। তবে এটির সবিশেষ পরিচিতি লাভ করে 1880 সালে ইংরেজ ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি (Arnold Toynbee) কর্তৃক লিখিত “Lectures on the industrial revolution of the 18th century in England” গ্রন্থে ব্যবহারের মাধ্যমে।

শিল্প বিপ্লবের সংজ্ঞা: 

ব্রিটিশ অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ অধ্যাপিকা ফিলিস ডিন (Phyllis Deane) এর মতে ইংল্যান্ডের অর্থনীতিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তনগুলোকে শিল্প বিপ্লব বুঝায়:
ক) কুটির শিল্পের পরিবর্তে যন্ত্রচালিত পুঁজিবাদী শিল্পের বিকাশ। অর্থাৎ পুঁজিপতি শ্রেণির মূলধন দাঁড়া কারখানা স্থাপন করে এতে শিল্প পণ্য উৎপাদনের ব্যবস্থা।
খ) উৎপাদনের কাজে নতুন যন্ত্রপাতির ব্যবহার।
গ) যন্ত্র চালানোর কাজে বাষ্পের ব্যবহার।
ঘ) কারখানায় পণ্য উৎপাদনের কাজে শ্রমিক নিয়োগ।
ঙ) উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করে মুনাফা অর্জন।
চ) মূলধন জোগান এর জন্য ব্যাংক প্রভৃতি অর্থনৈতিক সংস্থার উদ্ভব।

শিল্প বিপ্লবের সময়কাল: 

Robert Ergang এর মতে, ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের সময় ছিল 1760 থেকে 1825 সাল পর্যন্ত। ঐতিহাসিক Arnold Toynbee এর মতে, 1760 সালকেই শিল্প বিপ্লবের সূচনা বর্ষ হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ, যিনি 1760 সাল থেকে 1840 সালের মধ্যে ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিস্ময়কর গতিকে বোঝানোর জন্য শিল্প বিপ্লব অভিধাটি ব্যবহার করেন। অধ্যাপক টি এস অ্যাশটন (T. S. Ashton) লিখেছেন, 1782 সালের পর থেকে শিল্পোৎপাদনের সবক্ষেত্রেই ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। অধ্যাপক W.W. Rostow এর মতে, 1783 থেকে 1802 সাল পর্যন্ত সময়কালেই আধুনিক সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল।

শিল্প বিপ্লবের উদ্ভব: 

আঠারো শতকের মধ্যভাগে অর্থাৎ 1760 সালের দিকে ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের সূত্রপাত হয়। কিন্তু ঐতিহাসিকদের ধারণা, 1485 সালে টিউডর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা পর থেকেই আধুনিক যুগের সূত্রপাত হয়। কেননা 1485 সালের পরে তিন শত বছরের কম সময়ে ইংল্যান্ডের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক চিন্তা চেতনা এবং বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয় শিল্প বিপ্লব কে প্রণোদিত করেছিল। ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব সম্ভব হয়েছিল এজন্য যে প্রায় একই সময়ে দেশের শিল্প ক্ষেত্রে বিরাট পরিবর্তনের জন্য বেশকিছু সহায়ক উপাদানের সমন্বয়ে ঘটেছিল।

আর এসব সহায়ক উপাদান এর ক্রমশ বিকাশ ঘটেছিল আঠারো শতকের মধ্যভাগের পূর্ববর্তী কয়েক শতাব্দী ধরে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, শুধুমাত্র 1660 থেকে 1729 সালের মধ্যেই মোট 270 টি উৎপাদন কৌশল সরকারি অফিসে নিবন্ধিত হয়েছিল। 1707 সাল থেকে 1789 সালের মধ্যে এই উৎপাদন কৌশলের সংখ্যা ছিল প্রায় 700। তাই ইংল্যান্ডকে সেই সময় বলা হত “পৃথিবীর কারখানা“.

শিল্প বিপ্লবের উদ্ভব এবং দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। নিন্মে প্রভাবক গুলো সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হলো:

উপনিবেশ স্থাপন: 

1603 সালে প্রতিষ্ঠিত স্টুয়ার্ট রাজাদের আমলে উপনিবেশ স্থাপন শুরু হয়। 1585 সালে স্যার ওয়াল্টার রেলে ভার্জিনিয়ায় যুক্তরাজ্যের প্রথম কলোনি স্থাপন করেন কিন্তু তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পরবর্তীতে 1607 সালে প্রথম জেমস এর শাসনামলে ইংল্যান্ডের প্রথম স্থায়ী উপনিবেশ স্থাপিত হয় বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জেমস টাউনে বা ভার্জিনিয়ায়। পরবর্তীকালে উত্তর আমেরিকায় উপনিবেশ স্থাপনের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে। একই সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বার্বাডোস (১৬২৩), এন্টিগুয়া (১৬২৩), জ্যামাইকা (১৬৭০) দ্বীপে ইংল্যান্ডের উপনিবেশ গড়ে ওঠে। এছাড়া সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে উত্তর আমেরিকার আটলান্টিক উপকূলে ১৩ উপনিবেশ গড়ে ওঠে যা ১৭৩২ সালে জর্জিয়া প্রদেশ সৃষ্টির মাধ্যমে পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ: 

স্টুয়ার্ড রাজাদের আমলেই বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ শুরু হয়। 1607 সালে ভার্জিনিয়ায় ইংল্যান্ডের প্রথম উপনিবেশ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্যের বিস্তার লাভ করে। অপরদিকে 1600 সালে প্রতিষ্ঠিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উদ্যোগে ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপিত হয় এবং 1612 সালে সুরাটে, 1640 সালে মাদ্রাজে, 1668 সালে বোম্বেতে, 1756 সালে কলকাতায় কোম্পানির অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। 1757 পলাশীর যুদ্ধে বাংলা নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের ফলে ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

এভাবে পনেরো, ষোলো, সতেরো শতকে ইউরোপে যে বাণিজ্য বিপ্লব সংঘটিত হয় তার ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয় ইংল্যান্ড। 1600 থেকে 1700 সালের মধ্যে ইংল্যান্ডের রপ্তানি দ্বিগুণের বেশি এবং 1700 থেকে 1750 সালের মধ্যে তিন গুণের বেশি বৃদ্ধি পায়। এ সময়ে আমদানির পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু আমদানির চেয়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল বেশি।

শিল্প কৃষি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগতি: 

ইংল্যান্ডের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণের প্রভাব ছিল সুদুরপ্রসারি। কেননা এর ফলে কয়লা, ইস্পাত, বাসনপত্র তৈরি, জাহাজ নির্মাণ এবং বিশেষভাবে বয়ন শিল্পে অগ্রগতি সাধিত হয়। আবাদি জমি বৃদ্ধি পায়, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি হয়, বণিক পুঁজির বিকাশ লাভ করে, সমাজে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অবস্থান শক্তিশালী এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত হয়। একই সাথে আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে এবং 1694 সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে “Bank of England” প্রতিষ্ঠিত হয়।

বড় বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, 1698 সালে “London stock exchange” এর কার্যক্রম শুরু হয় এবং কয়েকটি বীমা কোম্পানি গঠিত হয়। আঠারো শতকের প্রথম দিকে কিছু সংখ্যক কৃষিবিদ মাটির উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃষিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগের জন্য কাজ করেন। কৃষি বিপ্লবের জনক ছিল জের্থ্রো টুল। কৃষি বিপ্লবের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন লর্ড টাউনসেন্ড, রবার্ট ব্যাকওয়েন প্রমুখ।

বয়ন শিল্পে অগ্রগতি: 

বয়ন শিল্পে তিনটি পরিবর্তনের কথা বিশেষ উল্লেখযোগ্য। প্রথমত, Putting out প্রথার উদ্ভব হয়। মধ্যযুগে বস্ত্র উৎপাদিত হতো তাঁতিদের ঘরে। তাঁতী কাঁচামাল সংগ্রহ করে বস্ত্র উৎপাদন করত এবং সরাসরি তা বাজারজাত করত। কিন্তু আধুনিক যুগের শুরুতে ব্যবসায়ীগণ তাদের কাছ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এভাবে তাতেই তার স্বাধীনতা হারায় এবং বণিক পুঁজি শিল্প পুঁজিতে রূপান্তরিত হয়।

দ্বিতীয়ত, কোন কোন ক্ষেত্রে পুঁজিপতি গণ তাতীদেরকে বাড়িতে উৎপাদন করতে না দিয়ে তাদেরকে এক জায়গায় জড়ো করে প্রদান করে। তাঁতিদের প্রত্যেকের বাড়িতে গিয়ে উৎপাদন কাজ তদারকি করার ক্ষেত্রে যেসব অসুবিধা দেখা গিয়েছিল প্রধানত তা দূর করার জন্য এ ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছিল। এ ব্যবস্থা ছিল শিল্প বিপ্লব এর সৃষ্ট কারখানা বা ফ্যাক্টরির পূর্বসূরী।

তৃতীয়ত, সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ছিল ফ্লাইং শাটল (Flying Shuttle) নামক এক ধরনের বৈজ্ঞানিক মাকুর প্রবর্তন। এটি 1733 সালে John kay সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন যান্ত্রিক উপায়ে পরিচালিত হত।

নেভিগেশন অ্যাক্ট প্রবর্তন: 

ওলিভার ক্রমওয়েলের শাসনকালে 1651 সালে প্রথম নেভিগেশন অ্যাক্ট প্রবর্তিত হয়। এই আইনে বলা হয়েছিল যে, উত্তর আমেরিকায় ও অন্যান্য এলাকার উপনিবেশ এবং ভারত থেকে যেসব পণ্য ইংল্যান্ডে আমদানি করা হবে তারা শুধু ব্রিটিশ বাণিজ্য তৈরিতে বহন করতে হবে। ২য় নেভিগেশন অ্যাক্ট প্রবর্তিত হয় 1660 সালে। এই আইনে বলা হয় যে, উপনিবেশ সমূহ কত সংখ্যক পণ্য রপ্তানি করতে পারবে।একই সাথে উত্তর আমেরিকায় কতগুলো শিল্পজাত পণ্যের উৎপাদন এবং ভারত থেকে কয়েক প্রকার সুতি বস্ত্রের আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়। মূলত ইংল্যান্ডের শিল্পোৎপাদন কে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই শেষোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। (শিল্প বিপ্লব)

যন্ত্রপাতির উদ্ভাবন: 
বস্ত্র শিল্পে বিপ্লব: 

অধ্যাপক রষ্ট্রো শিল্প বিপ্লবের পরিপ্রেক্ষিতে এই ক্ষেত্রটিকে চিহ্নিত করেছেন। ‘take off’ বা ‘প্রথম উড়ন্ত সূচনার মূল ক্ষেত্র’ হিসেবে। অধ্যাপিকা ফিলিস ডিন এর মতে, শিল্পবিপ্লবে বস্ত্র শিল্পের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। 1733 সালে ‘John Kay’ ‘Flying Shuttle’ আবিষ্কার করেন। 1764 সালে Hargreaves সুতা উৎপাদনের যন্ত্র ‘Spinning Jenny‘ আবিষ্কার করেন। 1768 সালে Richard Arkwright জলশক্তি নিয়োগ করে সুতা কাটার আরেকটি যন্ত্র ‘Water Frame‘ উদ্ভাবন করেন। 1789 সালে ‘Samuel Crompton’ ‘Spinning Mule‘ নামে আর একটি যন্ত্র আবিষ্কার করে Hargreaves ও Arkwright এর উদ্ভাবিত প্রণালীর সমন্বয় করেন। 1786 সালে ‘Edmund cartwright’ ‘Power Loom‘ আবিষ্কার করে বয়ন শিল্পে যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধন করেন। (শিল্প বিপ্লব)

Wool_Spinning_Jenny_itihaspedia.org
Wool_Spinning_Jenny img src:commons.wikimedia.org
Water_Frame
Water_Frame img src:commons.wikimedia.org

লৌহ শিল্পে বিপ্লব: 

অষ্টাদশ শতকের শেষ 25 বছরে অন্য যে শিল্প বিপ্লব প্রথম ঘটেছিল, সেটি হল লৌহ শিল্প। কেননা নতুন যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করার জন্য লোহা ও কয়লার প্রয়োজন হয়। উন্নত উপায় খনি থেকে কয়লা তোলার ব্যবস্থা করা হয়। 1709 সালে ‘Abraham Darby 1‘ সর্বপ্রথম ‘Cokecoal’ ব্যবহার করে লোহা তৈরি করেন। 1777 সালে ইংল্যান্ডে প্রথম লৌহ সেতু এবং 1790 সালে লৌহপোত নির্মিত হয়। এভাবে ইংল্যান্ডে লৌহযুগের সূত্রপাত হয়। (শিল্প বিপ্লব)

যানবাহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব: 

শিল্প বিপ্লবের ফলে রাস্তাঘাট, যানবাহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছিল। ফ্যাক্টরি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ফলে পণ্য দ্রব্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছিল। পণ্য উৎপাদন বন্টন ও বিপণনের তাগিদে যানবাহন রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ঘটতে লাগলো। 1769 সালে ‘James Watt’ ‘Steam Engine’ আবিষ্কার করেন। ফলে বয়ন শিল্প এবং পরিবহন খাতে বাষ্প শক্তি ব্যবহৃত হতে থাকে। রেলগাড়ি, স্টিমার, মুদ্রণ যন্ত্র বাষ্প দ্বারা চালিত হয়। ইংল্যান্ডে প্রথম স্টিমার বা বাষ্প জলপোত নির্মিত হয় 1812 সালে।

জেমস ওয়াটের আবিষ্কারের কিছুদিনের মধ্যেই ‘George Stephenson’ ‘Locomotive Engine’ আবিষ্কার করেন। চক্রযানের সাথে সাথে জলযানের উন্নতি ছিল। 1803 সালে আমেরিকান ইঞ্জিনিয়ার Robert Fulton  বাষ্প নাও বা steamboat আবিষ্কার করেন। শিল্প বিপ্লবের ফলে সড়কপথ ও নতুন করে তৈরি হতে থাকে। Mc Adam গাড়ি চলার জন্য শক্ত রাস্তা তৈরি করার পদ্ধতি আবিষ্কার করে ইংল্যান্ডে পরিবহন বিপ্লব এনেছিলেন।

শিল্পবিপ্লব-উদ্ভব-বিকাশ-সময়কাল
‘locomotive-engine’
অর্থনীতির উত্থান: 

কায়িক শ্রমের পরিবর্তে উৎপাদনের ব্যবস্থা পরিবর্তিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। একই সাথে পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটে। বাজারে হঠাৎ করেই প্রচুর পরিমাণে ক্রেতা ও বিক্রেতা প্রবেশ করতে থাকে। যারা অর্থের বিনিময়ে পছন্দের পণ্য বাণিজ্যে আগ্রহী। ঐতিহাসিকদের এক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বলা যায় যে, 1801 থেকে 1815 সাল পর্যন্ত শিল্পোৎপাদন বার্ষিক শতকরা 4 ভাগেরও বেশি হারে বৃদ্ধি পায়।

work shop of the world: পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়। 1760 ও 1850 সালের মধ্যে আমদানি বৃদ্ধি পায় 12 গুণ। রপ্তানি বৃদ্ধি পায় 13 গুণ। আমদানি হতো কাঁচামাল এবং খাদ্যশস্য আর রপ্তানি হতো শিল্পজাত দ্রব্য। ইংল্যান্ডের শিল্প পণ্য পৃথিবীর সব দেশে রপ্তানি হতো এবং ইংল্যান্ডকে বলা হত ‘পৃথিবীর কারখানা‘ বা ‘work shop of the world‘.

1750 থেকে 1850 সালের মধ্যে ব্রিটেনে যে রূপান্তর ঘটে ছিল সেটাই সেদেশে শিল্পায়নের সূচনা করে। দেশের তুলনায় বেড়ে যায় উৎপাদন শিল্পের গুরুত্ব প্রথম শিল্প বিপ্লব হিসেবে পরিচিত। শিল্পে ধারাবাহিক পরিবর্তনের হাত ধরেই আসে ব্রিটেনে জনবিপ্লব।

জনসংখ্যার বৃদ্ধি, শিল্পা শ্রমের যোগান দিতে সাহায্য করেছিল। প্রস্রবণ এর সুতো কাটার নতুন যন্ত্র আবিষ্কার, বাষ্প চালিত ইঞ্জিন, রেল ইঞ্জিন, ছাপাখানা, সড়ক, খাল ও রেলপথ নির্বাণ ইত্যাদি পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের সীমিত ক্ষমতা কে ব্যাপকতা দিয়েছিল। এত পরিবর্তন একসাথে এসেছিল বলেই তা ‘বৈপ্লবিক’ বলে চিহ্নিত। (শিল্প বিপ্লব)

Leave a Comment