মৌলিক গণতন্ত্র কি এবং আইয়ুব খানের বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়া।

পাকিস্তানের সামরিক শাসনব্যবস্থা জারি হওয়ার পর আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র নামক এক অভিনব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সমর্থন লাভ করার লক্ষ্যে আইয়ুব মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেন। আর মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থা বেসামিরিকীকরণের একটি অংশ। মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় সদস্যরা শুধুমাত্র আইয়ুবের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যেই উক্ত ব্যবস্থায় যোগদান করেছিলেন। আইয়ুব খান নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার উদ্দেশ্যে মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। (মৌলিক গণতন্ত্র কি)

মৌলিক গণতন্ত্র কি

মৌলিক গণতন্ত্র হল এমন এক ধরণের সীমিত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা যেখানে সার্বজনীন ভোটাধিকার প্রদানের পরিবর্তে কিছু সংখ্যক নির্ধারিত প্রতিনিধির মাধ্যমে জাতীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। এ পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, মন্ত্রিসভা ও প্রতিনিধি পরিষদ প্রেসিডেন্টের অধীনস্থ থাকবে এবং প্রাদেশিক বা অন্য কোন স্তরে স্বায়ত্তশাসন থাকবেনা। আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন ১৯৫৯ সালের ৩০ এপ্রিল এবং ১ মে করাচিতে অনুষ্ঠিত গভর্নরদের সম্মেলন। ১৯৫৯ সালে ২৬ অক্টোবর তাঁর ‘মৌলিক গনতন্ত্র আদেশ’ ঘোষণা করেন। এই ব্যবস্থায় পাকিস্তানের উভয় অংশ থেকে ৪০,০০০ করে মোট ৮০,০০০ ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য নিয়ে দেশের নির্বাচকমন্ডলী গঠিত হয়। (মৌলিক গণতন্ত্র কি)

মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন জেনারেল আইয়ুব খান।

নির্বাচক মণ্ডলীঃ মৌলিক গণতন্ত্রের আওতায় পাকিস্তানের উভয় অংশ থেকে ৪০,০০০ করে মোট ৮০,০০০ টি নির্বাচনি ইউনিট দিয়ে দেশের নির্বাচকমণ্ডলী গঠিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের ১২৭০ জন ভোটার নিয়ে একটি ইউনিট এবং পশ্চিম পাকিস্তানে ১০৭২ জন ভোটার নিয়ে প্রত্যেকটি ইউনিট গঠিত হয়। এই ইউনিটের জন্য ১ জন করে সদস্য নির্বাচিত হতেন। এদের দ্বারা রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, জাতীয়, প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যবৃন্দ নির্বাচনের বিধান করা হয়। এই পদ্ধতিতে পরোক্ষ নির্বাচন সৃষ্টি করে নাগরিকদেরকে প্রত্যক্ষ ভোটের অধিকার হরণ করা হয়। (মৌলিক গণতন্ত্র কি)

মৌলিক গণতন্ত্র কি এবং আইয়ুব খানের বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়া
মৌলিক গণতন্ত্র কি এবং আইয়ুব খানের বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়া

বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়াঃ

আইয়ুব খান তার শাসন ক্ষমতাকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে নামে বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়া সূচনা করেন। তিনি মূলত একজন সামরিক আইন প্রশাসক থেকে সরাসরি দেশের ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। তাই তিনি নিজেকে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে বৈধ প্রমাণ করার জন্য বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়া শুরু করেন। এক্ষেত্রে মৌলিক গণতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং সংবিধান প্রণয়ন ও নির্বাচনের আয়োজন করেন।

আইয়ুব খানের বেসামরিকীকরণ প্রবর্তনের উদ্দেশ্যঃ

আইয়ুব খান জনগণকে তাদের আঞ্চলিক সমস্যাসমূহের সমাধান করতে সংগঠিত এবং আত্মনির্ভরশীল করতে চেয়েছেন। তার মতে, দলগুলোর জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তিনি নতুন একটি শ্রেণী তৈরি করতে চেয়েছিলেন যারা সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি না করে সহযোগিতা করবে। সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসন এবং সরকারি কর্মকর্তা ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় সাধন। সর্বোপরি তিনি তার রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ পূরণ করতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। (মৌলিক গণতন্ত্র কি)

বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়ার স্তরবিন্যাস সমূহঃ

১৯৫৯ সালের মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ দ্বারা চার স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন চালু হয়।  ১. ইউনিয়ন কাউন্সিল ২. থানা কাউন্সিল ৩. জেলা পরিষদ ৪. বিভাগীয় কাউন্সিল।

নিম্নে এদের বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ

ইউনিয়ন কাউন্সিলঃ

মৌলিক গণতন্ত্রের নিচের স্তরের নাম ছিল ইউনিয়ন কাউন্সিল। কয়েকটি গ্রাম নিয়ে একটি ইউনিয়ন গঠিত। ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ সংখ্যক জনগোষ্ঠী, অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে ইউনিয়ন কাউন্সিল গঠিত হতো। ১৯৬০–১৯৬২ সাল পর্যন্ত ১০ জন সদস্য নিয়ে প্রতিটি ইউনিয়ন কাউন্সিল গঠিত হয়। তারা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তিবর্গের ভূমিকা।

ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে থেকে একজনকে চেয়ারম্যান ও একজন ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতেন। এদের মেয়াদ ছিল ৫ বছর। একমাত্র জেলা প্রশাসক প্রয়োজনবোধে এই পরিষদ ভেঙ্গে দিতে পারতেন। প্রত্যেক ইউনিয়ন কাউন্সিলে একজন সচিব নিয়োগ করা হয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য চৌকিদার ও দফাদার নিয়োগ করতো। (মৌলিক গণতন্ত্র কি)

থানা কাউন্সিলঃ

স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের দ্বিতীয় স্তর থানা কাউন্সিল। থানার অন্তর্গত সকল ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যানবৃন্দ ও সংখ্যক থানা বা তহশিল  পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা নিয়ে থানা পরিষদ গঠিত হয়। মহকুমা প্রশাসক থানা কাউন্সিলের সভাপতি ছিলেন। ১৯৫৯-৬০ সালে নির্বাচিত সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা সদস্য এবং মনোনীত সদস্য নিয়ে কাউন্সিল গঠিত হত। (মৌলিক গণতন্ত্র কি)

জেলা কাউন্সিলঃ

১৯৫৯ সালের মৌলিক গণতন্ত্র আদেশের তৃতীয় স্তর জেলা কাউন্সিল চালু হয়। ৪০ জন সদস্য নিয়ে জেলা কাউন্সিল গঠন করা হয়েছিল।  কাউন্সিলের অর্ধেক সদস্য সরকারি কর্মকর্তা আর বাকি অর্ধেক নির্বাচিত প্রতিনিধি। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে জেলা কাউন্সিল সদস্য ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যানদের মধ্যে থেকে নির্বাচিত হতেন। ডেপুটি কমিশনার কাম কালেক্টর ছিলেন এ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান।

বিভাগীয় কাউন্সিলঃ

মৌলিক গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ ধাপ ছিলো বিভাগীয় কাউন্সিল। ৪৫ জন সদস্যের সমন্বয়ে বিভাগীয় কাউন্সিল গঠিত হয়েছিল। এর মোট সদস্যের অর্ধেক সরকারি কর্মকর্তা আর বাকিরা জেলা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিনিধি। বিভাগের অন্তর্গত বিভিন্ন জেলা কাউন্সিলের মধ্যে সমন্বয় সাধনই ছিল বিভাগীয় কাউন্সিলের অন্যতম কাজ। এই স্তর স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনে কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি।

আইয়ুব খানের পতনের কারণ (১৯৬৯) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান

শহরের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনঃ 

১৯৬০ সালে শহরাঞ্চলে মৌলিক গণতন্ত্র চালু হয়। ৫৬ টি মিউনিসিপ্যালিটিকে টাউন কমিটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। মিউনিসিপ্যাল কমিটির নিচের ধাপে ছিল শহর কমিটি। তাদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা প্রায় মিউনিসিপ্যাল কমিটির মতো ছিল।  ইউনিয়ন কমিটির সদস্য সংখ্যা বিভাগীয় কমিটি নির্ধারণ করে দিতেন। এ কমিটির চেয়ারম্যান ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়রাম্যানের মতো ক্ষমতা ভোগ করতেন। মিউনিসিপ্যাল কমিটির বিভিন্ন সময় বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড়া কোন অর্থের উৎস ইউনিয়ন কমিটির ছিল না। এর ফলে কোন উন্নয়নমূলক কাজ তাদের পক্ষে কঠিন ছিল। (মৌলিক গণতন্ত্র কি)

মিউনিসিপ্যাল কমিটিঃ

গ্রাম এলাকায় মৌলিক গণতন্ত্রের মত ১৯৬০ সালে শহরাঞ্চলে মৌলিক গণতন্ত্র চালু হয়। ৫৬ টি মিউনিসিপ্যালিটিকে টাউন কমিটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রত্যেক মিউনিসিপ্যাল কমিটি নির্বাচিত প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং মনোনীত সদস্য নিয়ে গঠিত হতো। ২৯ টি মিউনিসিপ্যাল কমিটির মধ্যে মাত্র ৫ টির সার্বক্ষনিক চেয়ারম্যান ছিল। বাকিগুলো এসডিও বা এডিসি খণ্ডকালীন চেয়ারম্যান হিসেবে থাকতেন।

শহর কমিটিঃ

মিউনিসিপ্যাল কমিটির নিচের ধাপে ছিল শহর কমিটি। কমিটিতে একজন নির্বাচিত প্রতিনিধিকে চেয়ারম্যান, অন্য একজনকে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হতো। তাদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা প্রায় মিউনিসিপ্যাল কমিটির মতো ছিল। (মৌলিক গণতন্ত্র কি)

ইউনিয়ন কমিটিঃ

ইউনিয়ন কমিটির সদস্য সংখ্যা বিভাগীয় কমিটি নির্ধারণ করে দিতেন। এ কমিটির চেয়ারম্যান ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়রাম্যানের মতো ক্ষমতা ভোগ করতেন। মিউনিসিপ্যাল কমিটির বিভিন্ন সময় বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড়া কোন অর্থের উৎস ইউনিয়ন কমিটির ছিল না। এর ফলে কোন উন্নয়নমূলক কাজ তাদের পক্ষে কঠিন ছিল। ওয়ার্ড কমিটিও ছিল।

নির্বাচক মণ্ডলীঃ

মৌলিক গণতন্ত্রের আওতায় পাকিস্তানের উভয় অংশ থেকে ৪০,০০০ করে মোট ৮০,০০০ টি নির্বাচনি ইউনিট দিয়ে দেশের নির্বাচকমণ্ডলী গঠিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের ১২৭০ জন ভোটার নিয়ে একটি ইউনিট এবং পশ্চিম পাকিস্তানে ১০৭২ জন ভোটার নিয়ে প্রত্যেকটি ইউনিট গঠিত হয়। এই ইউনিটের জন্য ১ জন করে সদস্য নির্বাচিত হতেন।

বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়া নির্বাচনঃ

মৌলিক গণতন্ত্র কি এবং আইয়ুব খানের বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়া
ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আইয়ুব খান
১৯৬০ সালের হ্যাঁ/না ভোটঃ

১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জা সমগ্র পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করেন এবং সেনাবাহিনীর তৎকালীন সর্বাধিনায়ক জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদে নিযুক্ত করেন তিনি; ২৭শে অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জাকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করে নিজে রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হন। দু’বছর সামরিক শাসনের পর আইয়ুব খান তাঁর সরকারের বেসামরিক রূপ দিতে উদ্যোগী হন। মৌলিক গণতন্ত্রের আওতায় ১৯৬০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হয় প্রেসিডেন্টের উপর আস্থা আছে কি না সে বিষয়ে হ্যাঁ/না নির্বাচন।

এই নির্বাচনে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না। প্রেসিডেন্টের উপর আস্থা আছে কিনা সেটি জানাতে বি.ডি মেম্বারগণ হ্যাঁ/না বাক্সে তাদের ভোট দিয়েছেন। তবে ব্যালটে সীল মারার বিধান ছিল না। পূর্বের অনুমান অনুযায়ী আইয়ুব খান শতকরা ৯৫.৬ ভাগ ভোট পেয়ে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন।

১৯৬২ এর সংবিধানঃ

১৯৬০ সালে পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিশন গঠন করেন। তাদের দায়িত্ব ছিল ৫৬’র সংবিধানের ব্যর্থতার কারণ নির্ণয় ও সংবিধান প্রণয়ন করা। ১৯৬২ সালের ১লা মার্চ সংবিধান ঘোষণা এবং ৮ জুন কার্যকর করা হয়। সসংবিধানের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার, এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা, যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা, পরোক্ষ নির্বাচন, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ও উর্দু উভয়ের স্বীকৃতি। (মৌলিক গণতন্ত্র কি)

১৯৬২ সালের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনঃ 

১৯৬০ সালের গঠিত শাসনতন্ত্র কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৯৬২ সালের ২৮ এপ্রিল জাতীয় পরিষদ ও ৬ মে প্রাদেশিক পরিষদের পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা করা হয়। ছাত্ররা শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুললে আওয়ামিলীগ ও ন্যাপ নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকে। দলবিহীন এ নির্বাচনে মুসলিম লীগ অংশ নেয় এবং এককভাবে জয়লাভ করে। ১৯৬২ সালের ৮ জুন জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে বসে এবং সংবিধান চালু হয়।

১৯৬৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনঃ

হ্যাঁ/না ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছর ক্ষমতা ভোগ করার পর আইয়ুব খানের ১৯৬৫ সালে আবারো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রয়োজন পড়ে। ৬৫ সালের নির্বাচন আইয়ুব খানের জন্য ৬০ সালের মত সহজ হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত অবশ্য তিনি জয়লাভ করলেও তার প্রতিদ্বন্দ্বী পূর্ব পাকিস্তানের ফাতেমা জিন্নাহ (মুহম্মদ আলী জিন্নাহর বোন) ভালো ভোট পেয়েছিলেন।

উপসংহারঃ

মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থা আইয়ুব খানের স্বার্থ উদ্ধারের একটি প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র ছিল গণতন্ত্রের নামে অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। উক্ত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে গ্রাম অঞ্চলে আইয়ুব মৌলিক রাজনীতি চালু করেন। মৌলিক গণতন্ত্রীরা গ্রাম এলাকায় রাজনীতিক হিসেবে গড়ে উঠে আইয়ুবের ক্ষমতা রক্ষার ক্ষেত্রে যথাযথ সমর্থন দিয়েছিল। জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে একমাত্র মৌলিক গণতন্ত্রীদেরকে তিনি ভোটাধিকার প্রদান করেছিলেন। ফলে জনগণ ভোটার থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। এইভাবে দেশের জাতীয় রাজনৈতিক ক্ষেত্রে জনগণের গৌণ ভূমিকায় অবতীর্ণ করেছিলেন।

Leave a Comment