মেটারনিক কে ছিলেন? মেটারনিক যুগের বৈশিষ্ট্য, সাফল্য-ব্যর্থতা

মেটারনিক কে ছিলেন?

ইউরোপের ইতিহাসে নেপোলিয়ন যুগের অবসানের পর ফরাসি বিপ্লবের ধ্যানধারণা ও প্রভাব অবসানের জন্য যে ব্যক্তি বিপ্লব বিরোধী মনোভাবের প্রকাশ করেছিলেন তিনি হলেন। অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর বা প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মেটারনিক (Klemens von Metternich or Prince Metternich)। চতুর ও স্বার্থবাদী এই নেতা তার কর্তৃত্বগুণে ইউরোপে যে সম্মোহনী প্রভাব বিস্তার করেছিলেন তা ইউরোপে তার নামে একটি যুগের সূচনা করে। ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে ভিয়েনায় যে সম্মেলন হয়েছিল সেখানে মেটারনিক বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেন।

তাই তাকে Coachman of Europe বলা হত। সে সময় থেকে ইউরোপে তিনি একক নেতৃত্ব গ্রহণ করেন কিন্তু তার নেতৃত্ব বেশি দিন স্হায়ী হয়নি। ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তার কর্তৃত্বের সমাপ্তি ঘটে।

মেটারনিক যুগঃ

অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী বা চ্যান্সেলর হিসেবে মেটারনিক দেশে ও বিদের যে নীতি অনুসরণ করেন সেই অনুসৃত নীতিই মেটারনিক ব্যবস্থা নামে পরিচিত। মেটারনিক ছিলেন প্রগতি বিরোধী অর্থাৎ গণতন্ত্র বিরোধী একজন রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ। তিনি “ভাগ কর এবং শাসন কর” নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। মেটারনিক কে ছিলেন

রেনেসাঁ কী? রেনেসাঁর বৈশিষ্ট্য বা প্রভাব সমূহ আলোচনা কর।

গণতন্ত্রের সব ভাবধারা ধ্বংস করে অতীতের স্বৈরাচারি রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্হা পুনঃপ্রবর্তন করাই ছিলো তার একমাত্র উদ্দেশ্য। পুরনো স্বৈরাচারি শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য এবং আধুনিক ধ্যান ধারণা, গণতন্ত্র থেকে অস্ট্রিয়া ও ইউরোপকে মুক্ত রাখতে চেষ্টা করেন। তাই তিনি ফরাসি বিপ্লবের ফলে গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবোধের যে গতি আসে তা ধ্বংস করেন সর্বশক্তি নিয়োগ করেন।

মেটারনিক যুগের বৈশিষ্ট্যঃ

১। অস্ট্রিয়ার প্রাধান্য স্থাপনঃ মেটারনিক ছিলেন অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী। ফলে অস্ট্রিয়ার স্বার্থ রক্ষা এবং ইউরোপের রাজনীতিতে অস্ট্রিয়ার প্রাধান্য স্থাপন করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। প্রিন্স মেটারনিক এটি সফলভাবে অর্জন করতে সক্ষম হন।

২। রক্ষণশীল নীতিঃ মেটারনিক রাজতন্ত্রের তীব্র অনুরাগী ছিলেন। ফরাসি বিপ্লবের প্রতি তার ছিল প্রচন্ড ঘৃণা। তিনি মনে করতেন মহামারী যেমন এক গৃহে থেকে প্রতিবেশী গৃহে ছড়িয়ে পড়ে তেমনি ফরাসি বিপ্লবের ভাবধারা প্রতিবেশী সব দেশে ছড়িয়ে পড়বে। সেজন্য ফরাসি বিপ্লবের ভাবধারা থেকে ইউরোপকে রক্ষার জন্য তিনি রক্ষণশীল নীতি প্রতিষ্ঠা করেন।

ইউরোপের রক্ষণশীলতার জনক বলা হয় – প্রিন্স মেটারনিখ। মেটারনিক কে ছিলেন

৩। ভাগ কর ও শাসন কর নীতিঃ মেটারনিক বুঝতে পেরেছিলেন অস্ট্রিয়ার সাম্রাজ্যের প্রজাদের এক ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ রাখা অসম্ভব। এজন্য তিনি ‘ভাগ কর ও শাসন কর‘ নীতির সাহায্যে অস্ট্রিয়ার সংহতি বজায় রাখার চেষ্টা করেন।

৪। সংস্কারের বিরোধিতাঃ অভ্যন্তরীণ কোন সংস্কারেই তার আগ্রহ ছিল না। মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্ষমতা ও প্রভাবকে তিনি সমাজের নৈতিক অবক্ষয় বলে মনে করতেন।

৫। রাশিয়ার রাজ্য বিস্তারে বাধা দানঃ ১৮১৫ থেকে ১৮৪৮ সাল পর্যন্ত মেটারনিক ব্যবস্থা ইউরোপে আন্তর্জাতিক পুলিশের কাজ করেছিল। অস্ট্রিয়ার নিরাপত্তার পরিপন্থী হওয়ায় মেটারনিক পূর্ব ইউরোপীয় দেশ রাশিয়ার রাজ্য বিস্তারনীতির বিরোধী ছিলেন।

মেটারনিক ব্যবস্থার সফলতা ও ব্যর্থতা নিরূপণঃ

মেটারনিকের সাফল্য সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
ঐক্যবদ্ধ ইউরোপীয় জোট গঠনঃ মেটারনিক ছিলেন ঐক্যবদ্ধ ইউরোপীয় জোট গঠনের প্রথম উদ্যোক্তা। তার নেতৃত্বেই ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে ভিয়েনায় ইউরোপের রাজবর্গকে নিয়ে ভিয়েনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় ইউরোপীয় সমবায় সংঘ (Concert of Europe) এই সংঘ পরপর চারটি সম্মেলনের আয়োজন করে। এসব সম্মেলনে ইউরোপের সমসাময়িক রাজনৈতিক সমস্যা আলোচিত হয়। উনিশ শতকের তৈরি এই সকল সম্মেলেন ও জোট বিশ শতকে জাতিসংঘ NATO গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

হ্যাবসবার্গ রাজবংশের নিরাপত্তাঃ মেটারনিক নীতির উদ্দেশ্য ছিল কোন পরিবর্তন না করে শাসন করা। অস্ট্রিয়াতে ফরাসী বিপ্লবের প্রভাব সম্পর্কে তিনি সতর্ক ছিলেন। তাই রাজতন্ত্রকে সুদৃঢ় করার জন্য তার গৃহীত পদক্ষেপ অস্ট্রিয়ার হ্যাবসবার্গ রাজবংশকে নিরাপত্তা দেয়। কারণ বিপ্লবের আদর্শ অস্ট্রিয়াকে প্রভাবিত করলে রাজতন্ত্রের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ হবে। মেটারনিক কে ছিলেন

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তিবর্গের ভূমিকা।

সমকালীন ইউরোপের শ্রেষ্ঠ কূটনীতিবিদঃ মেটারনিক একজন চতুর ব্যাক্তি এবং দক্ষ কূটনীতিবিদ ছিলেন। তার দক্ষতার গুণেই তিনি নেপোলিয়ন বিরোধী সামরিক জোট গঠন করেন এবং নেপোলিয়নকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। তিনি নিজ শহরেই আন্তর্জাতিক সম্মেলেন আয়োজন করে concert of Europe, Vienna Congress আয়োজন করেন। তার সময়ের ইউরোপের রাজনৈতিকগণ তাকে কূটনীতিক জ্ঞানের জন্য সমীহ ও ভয় করতেন। তার ধূর্ততার জন্য রুশ সম্রাট প্রথম আলেকজান্ডার তাকে মিথ্যাবাদী ও অন্যান্য রাজন্যবর্গ তাকে ‘সুবিধাবাদী’ বলে মন্তব্য করেন। ভবিষ্যতে কি হবে এ নিয়ে মেটানিকের কোন ধরনের মাথাব্যথা ছিলো না। মেটারনিক কে ছিলেন

মেটারনিকের ব্যর্থতাঃ

ফরাসি বিপ্লবের চেতনা অস্বীকার করাঃ আঠারো শতকের ফরাসি বিপ্লব ইউরোপে যে নবচেতনার জন্ম দিয়েছিল তা রোধ করা সম্ভব ছিল না। সামরিক রক্ষণশীল নীতি প্রয়োগ করে বিপ্লবের প্রভাব চেপে রাখা যায়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বিপ্লবের চেতনা আরো জেগে ওঠে। ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের প্রভাব রোধ করা সম্ভব ছিল না। ১৮৪৮ এর ফেব্রুয়ারী বিপ্লবের প্রভাব যখন প্যারিসে পার হয়ে ভিয়েনায় ছড়িয়ে পড়ে তখন মেটারনিক লন্ডনে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং নির্দ্বিধায় তার নৈতিক পরাজয় মেনে নেন। মেটারনিক কে ছিলেন

নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অভিজাতদের রক্ষকঃ মেটারনিক ছিলেন একজন অভিজাত। অভিজাতরা বিপ্লবকে ভয় পেত। অভিজাতদের স্বার্থরক্ষার জন্য অস্ট্রিয়াকে বৈপ্লবিক বাস্তবতা নিয়ে শাসন করার কথা তিনি ভাবতে পারেন নি। ফরাসি বিপ্লবের আদর্শ যে নতুন ইউরোপ গঠনে আহবান জানাচ্ছে তা তিনি মানতে চান নি। তার চিন্তা-ভাবনা ছিল নেতিবাচক। তিনি বিপ্লবকে হিংস্র, ধ্বংসাত্মক মনে করতেন।

ইউরোপের দেশগুলোর সাহায্য প্রাপ্তিতে ব্যর্থতাঃ মেটারনিক তাঁর রক্ষণশীল নীতি প্রয়োগ করার জন্য ইউরোপীয় প্রভাবশালী দেশগুলোর কাছে সহযোগিতার আবেদন জানান। কিন্তু ফরাসি বিপ্লবের ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলি রক্ষণশীল মনোভাব থেকে বেরিয়ে এসে পরিবর্তন চেয়েছিল। তাই সেই রাষ্ট্রগুলো মেটারনিক ব্যবস্থার প্রতি সহযোগী ছিলেন না।

তীব্র দমননীতিঃ ইউরোপের কোন দেশে যখনই গণতান্ত্রিক বা জাতীয়তাবাদী আন্দোলন গড়ে উঠেছে, তখনই মেটারনিক সেই আন্দোলন গুলোকে কঠোরভাবে দমন করেন। সেনাবাহিনী, গুপ্তচর ও পুলিশবাহিনীকে কাজে লাগিয়ে তিনি একে একে স্পেন, নেপলস, পিডমন ও পোল্যান্ডের আন্দোলন গুলো দমন করলেও শেষ পর্যন্ত বিপ্লবের ভাবধারা মুছে দিতে পারেননি। ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে ব্যাপক গণ আন্দোলন করার ক্ষমতা তাঁর ছিল না। তিনি ইংল্যান্ডে পালিয়ে বেঁচেছিলেন। মেটারনিক কে ছিলেন

ফরাসি বিপ্লবের পটভূমি কি ছিল? সংঘটনের কারণ

জাতীয়তাবাদ অস্বীকারঃ ফরাসি বিপ্লবের সাম্য,মৈত্রী ও স্বাধীনতা বাণী যে ইউরোপের মানুষের মনে সদাজাগ্রত রয়েছে তা মেটারনিক স্বীকার করতে চান নি। মেটারনিক নীতি জাতীয়তাবাদের জোয়ারে আঘাত হানলেও তাকে একেবারে স্তব্ধ করে দিতে পারেনি। যার ফলে শত চেষ্টা করে ও হল্যান্ড থেকে বেলজিয়াম বিচ্ছেদ ও গ্রীসের স্বাধীনতা তিনি রোধ করতে পারেননি।

মেটারনিকের পতনের কারণঃ

প্রাচীনপন্থী নীতিঃ মেটারনিকের পতনের অন্যতম কারণ হলো তার প্রাচীনপন্থী নীতি। তিনি অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতি ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দূরদর্শিতা প্রদর্শন করতে পারেননি। তিনি ছিলেন প্রগতি বিরোধী, গণতন্ত্রের শত্রু এবং বিবেকশূন্য ষড়যন্ত্রকারী।

দমন নীতিঃ মেটারনিক মনে করতেন যে, কোন কিছুর পরিবর্তনের কোন দরকার নেই। যদি একবার পরিবর্তন হয় তাহলে তা বারবার পরিবর্তনের কথা উঠবে। পুরাতন রীতিনীতি আগলে ধরে রাখতে হবে। তাই তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামরত দেশ ও জনগণের উপর চরম দমন নীতি প্রয়োগ করেন। এটাও তার পতনের অন্যতম কারণ।

ইংরেজদের অসহযোগিতাঃ ইউরোপের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি ইংল্যান্ডের ছিল নৈতিক সমর্থন। কিন্তু, ইংল্যান্ড মেটারনিকের নীতির প্রতি কোনো সমর্থন দেননি। ইংরেজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড ক্যানিং মেটারনিকের নীতির প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রদর্শন করেন। এজন্য ইংল্যান্ড ইউরোপীয় সংঘের সিদ্ধান্ত না মেনে দক্ষিণ আমেরিকায় স্পেন উপনিবেশগুলোর স্বাধীনতা স্বীকার করে।

শিল্প বিপ্লব কি? উদ্ভব বিকাশ সময়কাল আলোচনা

কৃষকের প্রতি অবহেলাঃ অস্ট্রিয়ার কৃষকেরা সামন্ত প্রথার ফলে প্রচন্ডভাবে নিষ্পেষিত হলে এর প্রতিকারের জন্য মেটারনিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ফলে কৃষকেরা তার উপর ক্ষেপে যায়।

জাতীয়বাদ ও গণতন্ত্রের জয়ঃ ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাতে যে ছাত্র ও শ্রমিক বিক্ষোভ ঘটে তা ক্রমান্বয়ে সমগ্র অস্ট্রিয়াতে ছড়িয়ে পড়লে অসহায় মেটারননিক ইংল্যান্ডে পালিয়ে যান। তার এই পালিয়ে যাওয়া তার পতনের চূড়ান্ত কারণ। মেটারনিক কে ছিলেন

মূল্যায়নঃ

নিরপেক্ষ বিচারে মেটারনিকের নীতির আংশিক সাফল্যের কথা স্বীকার করতে হয়। নেপোলিয়নের সাথে দীর্ঘকাল ধরে ইউরোপের শান্তি স্থাপিত হওয়ার পর উদারনৈতিক প্রভাব বশত আবার কোন ব্যাপক অশান্তি দেখা দিলে ইউরোপের অপূরনীয় ক্ষতি হতো এতে কোন সন্দেহ নেই। তিনি দীর্ঘ ত্রিশ বছর ইউরোপে নিরবচ্ছিন্ন শান্তি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। নেপোলিয়নের মত যুদ্ধবাজ শাসকের হাত থেকে ইউরোপকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে প্রিন্স মেটারনিকের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

উপসংহারঃ পরিশেষে বলা যায়, ইউরোপের শান্তিপূর্ণ পুনর্গঠন ছিল প্রিন্স মেটারনিকের একমাত্র উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্যেই তিনি কূটনীতিক দক্ষতা দিয়ে নানা ঐক্যজোট গঠন করেন। তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের একজন চরম শত্রু। তার নীতি ছিলো ইউরোপের যা যেভাবে আছে তা সেভাবেই রাখা। প্রাচীন পন্থা, প্রাচীন ধ্যান–ধারণা ও সর্বোপরি স্বৈরাচারী নীতি তাকে ইউরোপের রাজনীতিতে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়। তার নীতির ফলে সমগ্র ইউরোপে ৪০ বছর ধরে শান্তি বজায় থাকে। মেটারনিক কে ছিলেন

প্রশ্নোত্তরঃ
  • কোন সময়কালকে ইউরোপের ইতিহাসে মেটারনিখের যুগ নামে পরিচিত? ১৮১৫-১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দ।
  • ইউরোপের রক্ষণশীলতার জনক কাকে বলা হয়? প্রিন্স মেটারনিখ।
  • মেটারনিক ব্যবস্থা বলতে কি বুঝায়? ইউরোপের সর্বত্র স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র ও সামন্ততন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই ছিল মেটারনিকের একমাত্র উদ্দেশ্য। আর এই উদ্দেশ্যকে সফল করতে প্রগতিবিরোধী ও ঘোর রক্ষণশীল যে ভারসাম্য নীতি তিনি গ্রহণ করেন সেটিই ইউরোপের ইতিহাসে মেটারনিক ব্যবস্থা নামে পরিচিত।
  • ভিয়েনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল কত সালে? ১৮১৪-১৫ সালে ভিয়েনার কংগ্রেসের আয়োজন সহ ইউরোপীয় এবং বিশ্ব রাজনীতিতে শহরটি একটি প্রধান ভূমিকা পালন করে চলেছে।
  • ভিয়েনা কংগ্রেসের বিগ ফোর কারা? বৈঠকে রাশিয়া, অস্ট্রিয়া, ব্রিটেন এবং প্রুশিয়া ছিল বিগ ফোর।
  • ইউরোপে রক্ষণশীলতার বিস্তারের কারণ এবং এর প্রভাব কি ছিল? 1815 সালে নেপোলিয়নের পরাজয়ের পরে, ইউরোপীয় সরকারগুলি রক্ষণশীলতার চেতনায় চালিত হয়েছিল। রক্ষণশীলরা বিশ্বাস করত যে প্রতিষ্ঠিত, রাষ্ট্র ও সমাজের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান – যেমন রাজতন্ত্র, চার্চ, সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস, সম্পত্তি এবং পরিবার – সংরক্ষণ করা উচিত।

 

  • মেটারনিক ব্যবস্থা জার্মান রাজ্যের উপর কি প্রভাব ফেলেছিল? মেটারনিক জার্মান রাজ্যগুলিকে উদার ও জাতীয়তাবাদী অভিব্যক্তিকে দমন করতে রাজি করান। 1819 সালের সেপ্টেম্বরে, কার্লসবাদ ডিক্রি চালু করা হয়েছিল। এইগুলি রাজ্যগুলিকে অনুমতি দেয়: প্রকাশনাগুলিকে সেন্সর করে৷
  • ডিউক মেটারনিক কে ছিলেন? ডিউক মেটারনিক 1809 সাল থেকে অস্ট্রিয়ান সাম্রাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং 1821 থেকে 1848 সালের উদারনৈতিক বিপ্লব পর্যন্ত চ্যান্সেলর হিসাবে তিন দশক ধরে ইউরোপীয় বিষয়ের কেন্দ্রে ছিলেন।

 

  • মেটারনিক এর পুরো নাম কি? Klemens von Metternich or Prince Metternich
  • হেবসবার্গ সাম্রাজ্যের কোন পুরানো নীতি মেটারনিক তার ব্যবস্থার জন্য ব্যবহার করেছিলেন? মেটারনিক বিশ্বাস করতেন যে সর্বোত্তম সরকার ছিল নিরঙ্কুশ কিন্তু এটি সর্বোত্তম কারণ এটি সবার জন্য সমান ন্যায়বিচার এবং ন্যায্য প্রশাসনের নিশ্চয়তা দেয়। হ্যাবসবার্গ রাজতন্ত্রে এবং ইতালীয় সরকারগুলিতে তিনি বিপ্লব থেকে রক্ষা করেছিলেন, তিনি এমন সংস্কারের পক্ষে ছিলেন যা জনগণের জন্য ভাল সরকার প্রদান করবে ।
  • 1815 সালে ইউরোপে কোন ধরনের রক্ষণশীল আদেশ বিদ্যমান ছিল? 1815 সালে ইউরোপে স্বৈরাচারী রক্ষণশীল শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

মেটারনিক কে ছিলেন

 

Leave a Comment