বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত -ভ্রমণ গাইড, সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম।

বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত বা গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নে অবস্থিত। বাঁশবাড়িয়া বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার অন্তর্গত একটি ইউনিয়ন (৬ নং ইউনিয়ন)। বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতকে গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত নামেও ডাকা হয়। বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন তথা বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত এ যাওয়ার একমাত্র এবং প্রধান সড়ক হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। তবে সব ধরনের যানবাহনের মাধ্যমে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতে যাতায়াত করা যায়। এটি গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত বা মুরাদপুর সমুদ্র সৈকত নামেও পরিচিত। এটি সীতাকুণ্ড বাজার থেকে ৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত।

চট্টগ্রাম শহর থেকে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত এ ২ দিক দিয়ে যাওয়া যায়। ১) বড় দিঘীর পাড় দিয়ে। ২) অলংকার/এ.কে. খান মোড় দিয়ে।

বড় দিঘীর পাড় দিয়ে যেভাবে যাবেনঃ

মুরাদপুর থেকে ৩ নং বাস দিয়ে বড় দিঘীর পাড় যাবেন। ভাড়া ১৫-২০ টাকা। অথবা, মুরাদপুর থেকে টেম্পু দিয়ে অক্সিজেন যাবেন। সেখান থেকে সি.এন.জি যোগে বড় দিঘীর পাড় যাবেন।

বড় দিঘীর পাড় থেকে চাঁদের গাড়ির মতো টেম্পু কিংবা সি.এন.জি নিয়ে ভাটিয়ারীর আঁকা বাঁকা রাস্তা দিয়ে ভাটিয়ারীর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে করতে ভাটিয়ারী স্টেশন যাবেন। সি.এন.জি ভাড়া জনপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা নিবে। এ দিক দিয়ে যাওয়ার প্রধান সুবিধা হচ্ছে, ভাটিয়ারীর মনোরম দৃশ্য অবলোকন করা যায় অর্থাৎ ভাটিয়ারী সংলগ্ন পাহাড়ের বিশালতা দেখতে দেখতে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্রের গভীরতায় সিক্ত হওয়ার স্বাদ পাবেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তিবর্গের ভূমিকা।

ভাটিয়ারী স্টেশন থেকে “ছোট ৮ নং বাস” দিয়ে সীতাকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া বাজার নামবেন। ভাড়া জনপ্রতি ৩০ টাকা। ওখান থেকে সি.এন.জি যোগে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত যাবেন। ভাড়া জনপ্রতি ২০ টাকা।

অলংকার বা এ.কে. খান মোড় দিয়ে যেভাবে যাবেনঃ

চট্টগ্রামের জি.ই.সি মোড় থেকে বাস/টেম্পু/মাহিন্দ্রা/সি.এন.জি দিয়ে এ.কে. খান যাবেন। ওখান থেকে “ছোট ৮ নং বাস” দিয়ে সীতাকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া বাজার নামবেন। ভাড়া জনপ্রতি ৩০ টাকা। ওখান থেকে সি.এন.জি যোগে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত যাবেন। ভাড়া জনপ্রতি ২০ টাকা।

গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত বা বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত এর পাড়ে কিছু নরমাল দোকান রয়েছে। যাবতীয় জিনিসপত্র পাওয়া যায়। ছোট ভাতের হোটেল রয়েছে। একটি মসজিদ রয়েছে। মসজিদের পাশে টয়লেট আছে।

ঢাকা থেকে কুমিরা ঘাট হয়ে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত বা গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত কীভাবে যাবেন?

ফকিরাপুল থেকে চট্টগ্রামগামী যেকোন বাসে করে কুমিরা আসবেন। ভাড়া জনপ্রতি ৪৮০ টাকা। সেখান থেকে সিএনজি যোগে সীতাকুন্ড বাজার যাবেন। সীতাকুণ্ড বাজার থেকে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত বা গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত ৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। সিএনজি যোগে সৈকত এ যাবেন।

সীমাবদ্ধতাঃ

এখানে সী বিচ এর মতো আনন্দ নেওয়া যাবেনা। কারণ এখানে বিচের মতো বালি নেই। চারদিকে কাঁদা আর কাঁদা। পানিতে নেমে গোসল করা যায় না। পানির উপর একটি ব্রীজ বানিয়ে জেটি বানানো হয়েছে। জানা যায়, ওই ব্রীজ দিয়ে মালবাহী ট্রলার থেকে পণ্য ওঠা নামা করা হয়। তবে পর্যটকদের ওই ব্রীজের ওপর ওঠতে গেলে জনপ্রতি ৩০ টাকা দামের টিকেট কাটতে হয়।

বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত -ভ্রমণ গাইড, সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম
এ অঞ্চলকে বাঁশবাড়িয়া বলা হয় কেন?

জনশ্রুতি মতে, বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়িতে বাঁশ ঝাড় ছিল। বিভিন্ন এলাকার বাঁশ ব্যাবসায়ীরা বাঁশ কিনার জন্য এ এলাকায় আসত। ধারণা করা হয়, এক সময় প্রতিটি বাড়িতে বাঁশের ঝাড় ছিল বলেই এ অঞ্চলের নাম হয় ‘বাঁশবাড়িয়া’ ।

বাঁশবাড়িয়া অঞ্চলে দর্শনীয় স্থান কী কী আছে?

১) বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত ২) বাঁশবাড়িয়া রাবার বাগান

সীতাকুণ্ডে দর্শনীয় স্থান কী কী আছে?

১) সীতাকুন্ড ইকো পার্ক ২) চন্দ্রনাথ পাহাড় ৩) ঝরঝরি ট্রেইল ৪) কমলদহ ঝর্ণা ৫) নাপিত্তা ছড়া ঝর্ণা ৬) খৈয়াছড়া ঝর্ণা ৭) বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত ৮) বাঁশবাড়িয়া রাবার বাগান ৯) সন্দ্বীপ

বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের আয়তন কত?
প্রায় ২৭.৫২ বর্গকিলোমিটার (১০.৬৩ বর্গমাইল)। বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের পোস্ট কোড: ৪৩১৩

উপজেলা সদর থেকে এ ইউনিয়নের দূরত্ব কত?
প্রায় ৯ কিলোমিটার।

বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের আশপাশের এলাকা?
গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত বা বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত তথা বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তরে বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন (উপজেলা সীতাকুন্ড), দক্ষিণে কুমিরা ইউনিয়ন (সীতাকুন্ড উপজেলার ৭নং ইউনিয়ন), পূর্বে ফরহাদাবাদ ইউনিয়ন (উপজেলা হাটহাজারী) এবং পশ্চিমে মগধরা ইউনিয়ন (উপজেলা সন্দ্বীপ) এবং সন্দ্বীপ চ্যানেল অবস্থিত।

গিলোটিন কি ? guillotine meaning in bengali এক শিরচ্ছেদ যন্ত্র।

সন্দ্বীপ কীভাবে যাবেন?
সীতাকুণ্ড উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়নের নাম কুমিরা। কুমিরা-সন্দীপ ফেরীঘাট বা কুমিরা ঘাট চট্টগ্রাম থেকে সন্দীপে যাতায়াতের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ঘাট। এর অন্য নাম গুলো হলোঃ কুমিরা-সন্দ্বীপ ফেরীঘাট ব্রীজ, ঘাটঘর ব্রীজ, কুমিরা ব্রীজ।

চট্টগ্রাম থেকে কুমিরা ঘাট হয়ে সন্দ্বীপ কীভাবে যাবেন?
শহরের অলংকার বা এ.কে খান মোড় থেকে সেইফ-লাইন সার্ভিসে ৩০-৩৫ টাকা ভাড়ায় কুমিরা ঘাটঘর রোড যাওয়া যায়। আবার নিউ মার্কেট থেকে ৭ নাম্বার বাসে (ছোট ৭ নং বাস) করে ২৭ টাকা ভাড়াতে কুমিরা ঘাটঘর রোড যাওয়া যায়। কুমিরা ঘাটঘর রোড থেকে ১০-২০ টাকা ভাড়ায় টমটম কিংবা রিক্সায় করে কুমিরা-সন্দ্বীপ ফেরীঘাট যাওয়া যায়।

যাতায়াত খরচঃ
কুমিরা ঘাট থেকে জনপ্রতি ২৫০-৩০০ টাকা ভাড়ায়  স্পিডবোট এর মাধ্যমে সন্দ্বীপ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে সন্দ্বীপ যেতে পারবেন। সময় লাগবে ৩০-৩৫ মিনিট।সন্দ্বীপ ঘাট থেকে রিজার্ভ সিএনজি যোগে ২২০/২৩০ টাকা ভাড়ায় সন্দ্বীপের মূল শহরে যাওয়া যায়।

ঢাকা থেকে কুমিরা ঘাট হয়ে সন্দ্বীপ কীভাবে যাবেন?
ফকিরাপুল থেকে চট্টগ্রামগামী যেকোন বাসে করে কুমিরা আসবেন। ভাড়া জনপ্রতি ৪৮০ টাকা। সেখান থেকে সিএনজি যোগে কুমিরা ঘাটঘর রোড আসবেন। ভাড়া জনপ্রতি ১০ টাকা। কুমিরা ঘাটঘর রোড থেকে ১০-২০ টাকা ভাড়ায় টমটম কিংবা রিক্সায় করে কুমিরা-সন্দ্বীপ ফেরীঘাট যেতে পারবেন।

বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

Leave a Comment

Exit mobile version