ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কি? আমেরিকা ও বাংলাদেশে এর প্রয়োগ

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কি

ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝানো হয় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন এবং বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগে হস্তক্ষেপ করতে না পারে। এই নীতির মূলকথা হলো সরকারের তিনটি অংশ (আইন, শাসন, বিচার বিভাগ) সম্পূর্ণ স্বাধীন হয়ে কাজ করবে। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ এর এই ধারণা প্রাচীনকালের রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের নিকটও প্রচলিত ছিল। এরিস্টটল, পলিবিয়াস সিসেরো প্রমুখ চিন্তাবিদ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। বিভিন্ন দেশে এই নীতি প্রচলিত রয়েছে, তবে পূর্ণ স্বতন্ত্রীকরণ সম্ভব নয়, এটি কাম্যও নয়।

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির উৎপত্তি এবং চিন্তাবিদদের মতামতঃ

ক্ষমতা পৃথকীকরণ নীতি অনে প্রাচীন। খ্রিস্টের জন্মের আগে গ্রিক পন্ডিতরা এটা আলোচনা করেছিলেন। এরিস্টটল রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে তিন ভাগে ভাগ করেছিলেন। আইন, শাসন এবং বিচার বিভাগ। তার মতে, শাসন ব্যবস্থার এই তিন বিভাগ একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলে শাসন কাজের নিপুণতা হ্রাস পেতে বাধ্য। এই ধারণা থেকেই তিনি ক্ষমতা বন্টনের উপর জোর দেন। কিন্তু গ্রিসের এথেন্সের তৎকালীন শাসক সব বিভাগেই নিজের প্রভাব অক্ষুণ্ন রেখেছিলেন, ফলে সেখানে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রয়োগ সম্ভব হয়নি। রোমান পন্ডিত পলিবিয়াস এবং সিসেরো স্বতন্ত্রীকরণ নীতির কথা বলেন, কিন্তু প্রাচীন রোমেও বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এছাড়া মধ্যযুগেও ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি চিন্তাবিদদের আলোচ্য বিষয় ছিল। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কি

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক প্রবক্তা হলেন ফ্রান্সের শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ বোঁদা। তার মতে, যদি আইন প্রণয়ন ও বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা এক ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের দ্বারা ব্যবহৃত হয় তাহলে আইন প্রণয়ন কারীরা নিষ্ঠুর আইন প্রণয়ন করে তা নির্দয়ভাবে প্রয়োগ করতে পারেন এবং এটি স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর। ইংরেজ দার্শনিক জন লকও একই মত পোষণ করেন।

ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ এর বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা করেন। তার বিখ্যাত (Spirit of Laws) গ্রন্থে তার মতবাদের সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা হয় পৃথিবীর সর্বত্র। তিনি এই বইয়ে বলেন ‘যখন একই ব্যক্তি বা একই শাসকবর্গের হাতে আইন রচনা এবং শাসন ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয় তখন স্বাধীনতা থাকতে পারেনা, অথবা আইন প্রণয়ন এর ক্ষমতা ও শাসন ক্ষমতা যদি বিচার বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র না হয় তাহলে স্বাধীনতা থাকতে পারেনা।’ ইংল্যান্ডের সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্লাকস্টোন তার (Commentaries on Laws of England) গ্রন্থে মন্টেস্কুর মত গ্রহণ করেন।

সতীদাহ প্রথা উৎপত্তি বিলুপ্তি
সতীদাহ প্রথা উৎপত্তি বিলুপ্তি রহিতকরণের ইতিহাস।

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রভাবঃ

গণতন্ত্রায়নের সাথে সাথে এই নীতির প্রভাব বাড়তে থাকে। আমেরিকার স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং ফরাসি বিপ্লবের সময় এই মতবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ভার্জিনিয়া এবং উত্তর ক্যারোলিনা রাজ্যের সংবিধানে উল্লেখ করা হয় যে, আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার করার ক্ষমতা সব সময়ই পৃথক ও স্বতন্ত্র থাকা দরকার। বিপ্লবোত্তর ফ্রান্সের প্রথম সংবিধানে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। সেখানে মানবীয় অধিকার ঘোষণায় বলা হয়, যেখানে ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি গৃহীত না হয়, সেখানে কোন সংবিধান থাকতে পারেনা। বর্তমানে এই নীতির শতভাগ প্রয়োগ কোথাও না থাকলেও সবখানে আংশিক প্রয়োগ দেখা যায়। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রভাব ইউরোপ এবং আমেরিকায় বৃদ্ধি পেয়েছিল। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কি

সমালোচনাঃ

পূর্ণ স্বতন্ত্রীকরণ সম্ভবও নয় এবং বাঞ্চনীয়ও নয়।  সরকার একটি অখণ্ড এবং অবিচ্ছেদ্য সত্তা, তার কার্যক্রম এবং বিভাগকে বিচ্ছিন্ন করলে এর তৎপরতা, নিপুণতা এবং স্বাভাবিক কর্ম প্রচেষ্টার ব্যহত হয়। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণে শাসন ব্যবস্থায় অচলতার সৃষ্টি হতে পারে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মিল তার Representative Government  গ্রন্থে বলেন সরকারের প্রত্যেক বিভাগ যদি নিজ ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে স্বতন্ত্র হয়, তা হলে একে অপরের কার্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে এবং একসময় অচলাবস্থার সৃষ্টি হওয়া খুব স্বাভাবিক, কারণ তা হলে প্রত্যেক বিভাগ নিজ ক্ষমতা সংরক্ষণ করতে গিয়ে অপর বিভাগগুলোতে কোন সাহায্য করবেনা। ফলে সরকারের কর্মদক্ষতা হ্রাস পাবে। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কি

পূর্ণ স্বতন্ত্রীকরণ অবাস্তব। সরকারের প্রত্যেক বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন হতে পারেনা। আমেরিকার সংবিধানে ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ এর উল্লেখ থাকলেও কার্যত তার পূর্ণপ্রয়োগ সম্ভব হয়নি। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন দেয় সিনেট (Senate)।  আবার আইন পরিষদ বিচারবিভাগীয় কাজ করে। যেমন, রাষ্ট্রপ্রধান দেশটির আইন পরিষদ কর্তৃক অপসারিত হতে পারেন (Impeachment)।  আবার শাসন বিভাগের প্রধান অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট আইন পরিষদকে প্রভাবিত করে বিভিন্ন আইন রচনা করাতে পারেন। সুতরাং দেখা যায়, সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রীকরণ সম্ভব না। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি অনেকটা অস্বাভাবিক। প্রত্যেক বিভাগকে একই পর্যায়ে রাখা সম্ভব নয়।

অধ্যাপক লাস্কির মতে, আইন, শাসন এবং বিচার বিভাগ যদি স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে তাহলে প্রত্যেক বিভাগের দায়িত্বশীলতা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হবে, পরস্পর সহযোগিতা নষ্ট হবে, ফলে শাসনকার্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কি

আধুনিক চিন্তাবিদরা ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতিতে বিশ্বাসী নন, তারা ক্ষমতার বিভক্তিকরণে বিশ্বাসী। শাসন বিভাগ ও আইন পরিষদকে সহযোগিতার সম্পর্ক বজায় রেখেই কাজ করতে হবে। তবে বিচার বিভাগকে দুই বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র হওয়া উচিৎ এবং আবশ্যিক।

বিভিন্ন দেশে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রয়োগঃ 

যুক্তরাজ্য- মন্টেস্কু ব্রিটিশ সংবিধানের উপর গবেষণা করে মত দেন যে, ব্রিটেনের শাসনব্যবস্থায় বিভাগীয় স্বাতন্ত্র্য এর চেয়ে সহযোগিতাই বেশি। তবে এখানে শাসন ব্যবস্থায় শাসকবর্গ স্বতন্ত্র না থাকলেও বিভাগীয় স্বাতন্ত্র্য বেশি পরিমাণে আছে। সরকারের তিনটি বিভাগ প্রায় পৃথকভাবে কার্য পরিচালনা করে। আইন প্রণয়ন এর ক্ষমতা পার্লামেন্টের উপর ন্যস্ত, কেবিনেট শাসন বিভাগ পরিচালনা করে। বিচারকরা শাসন বিভাগ কর্তৃক নিযুক্ত হলেও শাসকবর্গ অপসারণ করতে পারেন। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কি

বঙ্গভঙ্গের কারণ
বঙ্গভঙ্গের কারণ। হিন্দু সমাজ কেন এর বিরোধিতা করেছিল?

শাসন বিভাগ আইন পরিষদ থেকে উৎপন্ন এবং তাদের নীতি, কার্যাবলির জন্য শাসন বিভাগের নিকট দায়ী। শাসন বিভাগ আইন সভায় আইনের প্রস্তাব পাসের চেষ্টা করে এবং প্রস্তাব খুব কমই অগ্রাহ্য হয়। শাসন বিভাগ বা মন্ত্রীপরিষদ পার্লামেন্টকে ভেঙ্গে দিতে পারে আবার পার্লামেন্টও মন্ত্রীপরিষদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব করে মন্ত্রীপরিষদকে ভেঙ্গে দিতে পারে। এদিকে বিচার বিভাগের প্রধান লর্ড চ্যান্সেলর (Lord Chancellor) মন্ত্রীপরিষদ এর একজন বিশিষ্ট সদস্য।  সুতরাং দেখা যায়, চারদিক থেকেই ব্রিটেনের শাসন বিভাগ বাকী দুই বিভাগের সাথে সম্পৃত।

আমেরিকা- মার্কিন সংবিধানে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির স্পষ্ট উল্লেখ না থাকলেও সে দেশের সুপ্রীম কোর্ট বলে যে, এই নীতি শাসনব্যবস্থার এক মৌলিক উপাদান। স্বতন্ত্রীকরণ নীতির ভিত্তিতে প্রেসিডেন্টকে দেশটির শাসন বিভাগের প্রধান করা হয়েছে। তার মন্ত্রীসভার কোন সদস্য অথবা তিনি আইন পরিষদে আসন গ্রহণ করেন না বা কংগ্রেসে কোন হস্তক্ষেপ করেন না। আবার কংগ্রেসও মন্ত্রীসভার কোন সদস্য বা প্রেসিডেন্টকে সাধারণভাবে অপসারণ করতে পারেন না। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কি

বিচার বিভাগও শাসন বা আইন বিভাগের অধীনে নয়। কিন্তু বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। শাসন বিভাগের প্রধান প্রেসিডেন্ট আইন পরিষদকে কোন প্রস্তাব পাস করাতে প্রভাবিত করতে পারেন আবার আইন পরিষদ কংগ্রেসের দ্বিতীয় কক্ষ সিনেট শাসন বিভাগের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। তবে প্রেসিডেন্ট বিচারকদের নিয়োগ দেন এবং দন্ড হ্রাস করতে পারেন।

বাংলাদেশ- বাংলাদেশের সংবিধানের  দ্বাদশ সংশোধনীর ফলে এখানে মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকার প্রবর্তিত হওয়ায় ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি প্রতিপালিত হয়নি কারণ মন্ত্রীরা আইনসভার সদস্য। শাসন বিভাগ এখানে আইন পরিষদ এর সাথে জড়িত। তবে বিচার বিভাগ অন্যান্য বিভাগ থেকে স্বাধীন এবং স্বতন্ত্র, কিন্তু বিচারকদের নিয়োগ দেয় শাসন বিভাগ। বাংলাদেশে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির পরিবর্তে ক্ষমতা সম্মিলন পর্ব শুরু হয়েছে। মন্ত্রীপরিষদের হাতেই নির্বাহী কর্তৃক ন্যস্ত হয়েছে। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কি

প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীপরিষদ এবং শাসন বিভাগের প্রধান। আইন বিভাগের স্বাধীনতা থাকলেও তাদের নিয়োগ দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক। তবে প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতি তার ইচ্ছে অনুযায়ী নিয়োগ দেন। বিচার বিভাগ এর নিম্ন পর্যায়ে বিচারক ও অন্যান্য কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতার অধীনে নিযুক্ত হন। প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও দেখা যায় এক ধরনের সম্মিলন। তবে বলা যায়, বাংলাদেশের তিনটি বিভাগ স্বতন্ত্র এবং স্বতন্ত্র বিভাগীয় কার্যক্রম বিদ্যমান। প্রত্যেক বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ে এক ধরনের ঐক্যসূত্র রয়েছে। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কি

উপসংহারঃ সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য সরকারের তিনটি বিভাগকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে। এইজন্য সরকারের তিনটি বিভাগকে নিজ নিজ স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে হবে। কিন্তু এটাও লক্ষ্য রাখা উচিৎ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি অবলম্বন করতে গিয়ে শাসন প্রক্রিয়া ব্যহত হচ্ছে কিনা। তাছাড়া সম্পূর্ণভাবে স্বতন্ত্রীকরণ সম্ভবও নয়। আইন, শাসন এবং বিচার বিভাগের মধ্যে পরস্পর সহযোগিতামূলক মনোভাব থাকলেই ন্যায়বিচার, সুশাসন স্থাপন করা যাবে।

  • ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা কে? ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু
  • ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক প্রবক্তা কে? ফ্রান্সের শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ বোঁদা
  • ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কি? ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝানো হয় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন এবং বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগে হস্তক্ষেপ করতে না পারে। এই নীতির মূলকথা হলো সরকারের তিনটি অংশ (আইন, শাসন, বিচার বিভাগ) সম্পূর্ণ স্বাধীন হয়ে কাজ করবে।
  • এরিস্টটল রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে কত ভাগে ভাগ করেছিলেন? তিন

Leave a Comment