ইতিহাসের জনক কে ? ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা, ঐতি কাল 3 টি

ইতিহাসের জনক কে ?

ইতিহাস কী? ইতিহাসচর্চা কী? ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা, ইতিহাসের কালবিভাজন, কার্যকারণ ও ইতিহাস দর্শন ব্যাখ্যাঃ গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস সর্বপ্রথম তাঁর গবেষণাকর্মের নামকরণে ‘হিস্ট্রি’ (History) শব্দটি ব্যবহার করেন এবং আজ পর্যন্ত বিষয়টি এ নামেই পরিচিত হয়ে আসছে। পণ্ডিতগণের মতে, মানুষ, সময় ও স্থানের একটি সমন্বিত বিষয় হলো ইতিহাস। সমাজ ও রাষ্ট্রে নিরন্তর বয়ে যাওয়া ঘটনা প্রবাহকে ইতিহাস বলা যায়। অজানাকে জানার ব্রত নিয়েই মানুষ ইতিহাস লেখায় প্রবৃত্ত হয়। ইতিহাসকে ভিত্তি করেই ইতিহাস তত্ত্ব বা ইতিহাস চর্চা অভিজ্ঞানের উদ্ভব হয়েছে। ইতিহাসচর্চা বলতে ইতিহাস রচনার পদ্ধতি, সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন ও ইতিহাস বিষয়ে অনুসন্ধানের কলাকৌশলকে বুঝায়। ইতিহাসকে সঠিক করে বুঝতে হলে ইতিহাসচর্চা অধ্যয়নের বিকল্প নেই।

ইতিহাস শব্দের শাব্দিক ব্যাখ্যা: বাংলা ইতিহাস শব্দের অর্থ অতীত অতীত ঘটনার বিবরণ। এ শব্দটির উৎপত্তি ‘ইতিহ’ শব্দ থেকে যার অর্থ ঐতিহ্য। ঐতিহ্যকে এক হাত থেকে অন্যান্য হাতে তুলে দিয়েই ইতিহাসের সূচনা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপকারের জন্যই শুরু হয়েছিল অতীতে বিবরণ রেখে যাওয়ার কাজ। বাংলা ইতিহাস শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল “History”। যার উৎপত্তি হয়েছে গ্রীক শব্দ ‘Historia’ থেকে যার আভিধানিক অর্থ হলো সত্যানুসন্ধান বা গবেষণা (Investigation)। গ্রীক ঐতিহাসিক হিরোডোটাস সর্বপ্রথম তাঁর গবেষণা কর্মের নামকরণে “Historia শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন এবং আজ পর্যন্ত বিষয়টি এ নামেই পরিচিত হয়ে আসছে। তাঁর বইয়ের নাম “Histories“। ইতি হাসের জনক কে

ইতিহাস শব্দের উৎপত্তিগত অর্থ  লক্ষ্য  করলে এর বুৎপত্তিগত অর্থ এবং এর স্বরূপ বুঝা যায়। ইতিহাস সমাজবদ্ধ মানুষের অতীত কার্যাবলির ধারাবাহিক লিখিত বিবরণ। হেরোডোটাস

ইতিহাসের সংজ্ঞাঃ 

ইতিহাস গোষ্ঠীবদ্ধ সমাজবদ্ধ মানুষের অতীতের কর্মকান্ডের বিবরণী। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত মানুষ কিভাবে তার পারিপার্শ্বিক সমস্যাকে মোকাবেলা করে সমাজ, রাষ্ট্র , ধর্ম, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্পকলা এবং অর্থনীতি গড়ে তুলেছে তা ইতিহাসে আলোচিত হয়।তবে ইতিহাস কী তা এক কথায় বলা কঠিন। ইতিহাসের বিষয়বস্তু বহুমাত্রিক হওয়ায় বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিভিন্ন যুগে একে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। গ্রীক ঐতিহাসিক হিরোডোটাস তাঁর গ্রন্থ ‘ইতিবৃত্তের’ (Historias) শুরুতেই বলেছেন-‘This is an account of the investigations made by Herodotus of halicarnasscus, অর্থাৎ ‘ইহা হল হলিকারনাসাসের হিরোডোটাসের অনুসন্ধানের বিবরণ।’ হিরোডোটাস গল্পবলার ঢংয়ে ইতিহাস লিখেছিলেন।

গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব ও গ্রিকদের অবদান এবং এথেন্স ও স্পার্টা
গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব ও গ্রিকদের অবদান এবং এথেন্স ও স্পার্টা।

একই সময়ের সীক ঐতিহাসিক থুসিডাইডিস একটু অন্যভাবে ইতিহাসের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছেন। তাঁর মতে- ‘অতীতের কাহিনী ও ঘটনা যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করাকেই ইতিহাস বলে।’ থুসিডাইডিসের ইতিহাস রচনার ধারা ছিল বিজ্ঞান সম্মত। এ কারণে থুসিডাইডিসকে বৈজ্ঞানিক ইতিহাসের জনক বলা হয়। আবার থুসিডাইডিস মনে করতেন অতীতের বর্ণনা থেকে মানুষ শিক্ষা লাভ করবে। এ দৃষ্টিতে তাঁর ইতিহাস ছিল উপদেশমূলক। ফলে অনেকে থুসিডাইডিসকে উপদেশ মূলক ইতিহাসের জনক ও বলেছেন। ইতিহাসের জনক কে

অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ইতিহাস রচনা ধারণার ক্ষেত্রে শুধু হিরোডোটাস ও থুসিডাইডিসকে অনুকরণ করা হতো। ইতিহাসের সংজ্ঞা আবার নতুনভাবে তৈরী হতে থাকে ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে। এসময়ের ঐতিহাসিকদের অনেকেই মনে করেন ইতিহাস বিজ্ঞানেরই শাখা। কারণ বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে যেমন পরীক্ষাগারে  প্রমাণ করতে হয়,ইতিহাস তৈরিতেও তেমনিভাবে প্রয়োজন প্রমাণের। ইতিহাস যে বিজ্ঞানেরই শাখা সে মতের প্রধান প্রবর্তক ছিলেন জার্মান ঐতিহাসিক লিওপোল্ড ফন রাঙ্কে। তিনি  মনে করেন “কোনো মতামত নয় বরং অতীতের ঘটনা হুবহু প্রকাশ করা হচ্ছে ঐতিহাসিকের দায়িত্ব। ইংরেজ ঐতিহাসিক এইচ.টি. বাকল বলেন- অতীতের  ঘটনাবলী তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে বিশ্লেষণের পথ ধরে যাচাই করে নিলে তবেই তা হবে ইতিহাস।”

খ্যাতিমান ইতিহাসবিদ এডওয়ার্ড হ্যালেট কারের মতে – “অতীতের সাথে বর্তমানের যোগসূত্র তৈরি করার বিদ্যাই হচ্ছে ইতিহাস”।ঐতিহাসিক এইচ. কারের মতে- ‘ইতিহাস হলো বর্তমান ও অতীতের মধ্যে এক অন্তহীন সংলাপ”। ইতিহাসের জনক কে

আর্নল্ড টয়েনবি বলেছেন- ‘মানব সমাজের ঘটনা প্রবাহই ইতিহাস।’ টয়েনবির রক্তব্যের সাথেই সুর মিলেছে ভারতীয় ইতিহাসবিদ ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদারের।রমেশ চন্দ্র মজুমদার বলেছেন –’ ইতিহাস হলো মানব সমাজের অতীত কাर्याবলীর বিবরণী।’

ইতিহাসচর্চা কী:

ইতিহাসকে ভিত্তি করেই ইতিহাসচর্চা অভিজ্ঞানের উদ্ভব হয়েছে। ইতিহাসচর্চা বলতে ইতিহাস রচনার পদ্ধতি, সংশ্লিষ্ট নিয়ম কাनूন ও ইতিহাস বিষয়ে অনুসন্ধানের কলাকৌশলকে বুঝায়। যুগানুক্রমে ইতিহাস রচনার রীতিনীতি ও পদ্ধতিতে বহুল পার্থক্য দেখা যায়।প্রাক-আধুনিক যুগের বহু সমাজে ইতিহাস রচনার ঐতিহ্য বিকাশ লাভ করে। আধুনিক ইতিহাসতত্ত্বের উদ্ভব হয়েছে গত দেড়-দুই শ বছর ধরে।

সতীদাহ প্রথা উৎপত্তি বিলুপ্তি
সতীদাহ প্রথা উৎপত্তি বিলুপ্তি রহিতকরণের ইতিহাস

ইতিহাস লেখার জন্য একটি বিশেষ পদ্ধতি আছে। প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে কিভাবে ইতিহাসচর্চা হয়েছে এবং বিখ্যাত ঐতিহাসিকগণ কিভাবে ইতিহাস রচনা করেছেন, ইতিহাস সম্পর্কে তাদের দর্শন ভাবনা, তাদের রচনা কৌশল ইত্যাদি ইতিহাস চর্চায় আলোচিত হয় । ইতিহাসের মূল ভিত্তি হল ইতিহাসের তথ্য। তথ্য নিয়েই ঐতিহাসিকের কারবার। কাজেই তথ্যের বাছাই এবং তাকে ইতিহাসের উপাদান হিসেবে ব্যবহার একটি শিল্পকর্ম বটে। ইতিহাস চর্চা রা ইতিহাসতত্ত্বকে ইতিহাসের ব্যাকরণ বলেও অভিহিত করা হন।কেউ কেউ একে ঐতিহাসিকগণের ইতিহাস হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে থাকেন। ইতিহাসকে সঠিক করে বুঝতে হলে ইতিহাস তত্ত্ব বা ইতিহাসর্চা অধ্যয়নের বিকল্প নেই।ইতিহাসতত্ত্ব ইতিহাসের স্বরূপ তুলে ধরে সঠিকভাবে ইতিহাসচর্চার দিক নির্দেশ করে।

ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তাঃ 

ব্যক্তিগত, সমষ্টিগত ও জাতিগতভাবে ইতিহাসের গুরুত্ব অপরিসীম। বিষয়গত বৈশিষ্ট্য আলোচনা করতে গিয়ে ইতিহাসকে মানুষের আত্মোপলধ্বির চাবিকাঠি বলা হয়েছে। ইতিহাস পড়ে মানুষ স্বীয় প্রকৃতি বিষয়ে জানতে পারে। স্বীয় প্রকৃতি জানার অর্থ হল মানুষ কী করতে সক্ষম সে বিষয়ে ধারণা নেওয়া। কেউই জানে না সে কী করতে সমর্থ। তা জানার একমাত্র উপায় হল মানুষের  অতীত কার্যক্রমের সাথে পরিচিত হওয়া। ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে তার সম্ভব হয়। ‘মানুষ মা করেছে মানুষ তা করতে পারে’ (Man can do has What man has done)– ইতিহাস সকলের মনে এ দৃঢ় প্রত্যয় জন্মায়। ইতিহাস পাঠের মধ্য দিয়েই জানা যায় কিভাবে আদি মানব অসহায় অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে সভ্য ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিল। ইতিহাসের জনক কে

এভাবেই ইতিহাস পাঠের মধ্য দিয়ে আমরা মানব সমাজের শুরু থেকে তার যাবতীয় কর্মকান্ড, চিন্তা-চেতনা ও জীবনযাত্রার অগ্রগতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারি। ইতিহাস শুধু মানুষের অতীতকালের কর্মকান্ড উল্লেখ করে না, মানুষের অতীত কর্মকান্ডের পেছনের উদ্দেশ্যও খুঁজে বেড়ায়। মানুষের অতীত কীর্তির পেছনের উদ্দৈশ্য খুঁজে বের করে। এভাবে ইতিহাস পাঠের মধ্য দিয়ে অতীতকালে মানুষের চিন্তাভাবনা কি ছিল সে সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। ইতিহাসের জনক হিরোডোটাস থেকে শুরু অগণিত ঐতিহাসিক পণ্ডিতবর্গ ইতিহাসের প্রায়োগিক দিকের গুরুত্ব ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেন। হিরোডোটাস তাঁর ইতিহাস গ্রন্থের (ইতিবৃত্ত – Histories) মূল উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে গিয়ে লেখেন যে-উত্তরপুরুষেরা যাতে করে গ্রীক-পারসিক যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলির কথা না ভোলে সে জন্য তিনি তা লিপিবদ্ধ করে রাখেন।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানি ও ইতিহাসের বাস্তব মূল্য ও গুরুত্ব বিষয়ে বেশ সচেতন ছিলেন। তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে কুরআন ও হাদিসের পরই তিনি ইতিহাসকে স্থান দেন। তাঁর মতে এটা হল সঠিক ধর্ম যেখানে উপমার সাহায্যে নৈতিকতা শেখানো যায়।এভাবে দেখা যায় যে, মানুষের ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সমষ্টি ও জাতিগত জীবনের সর্বত্র ইতিহাসের গুরুত্ব অপরিসীম।

ইতিহাসের কালবিভাজনঃ

ইতিহাস হল মানবীয় কর্মকান্ডের বিবরণ। এ সকল কর্মকাণ্ড সময়ের গণ্ডিতে ধাধা। উৎস ইতিহাসচর্চার অপরিহার্য উপাদান। উৎসের মাপকাঠিতে ঐতিহাসিক কালকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যথাঃ

১। প্রাগ-ঐতিহাসিক কাল
২। ঐতিহাসিক কাল এবং
৩। সুপ্ত-ঐতিহাসিক কাল

(১) প্রাগ-ঐতিহাসিক কাল : মানব ইতিহাসের যে অংশের ওপর কোনো লিখিত বিবরণ নেই বা পাওয়া যায় না সে সময়কালকে প্রাগ-ঐতিহাসিক কাল বলে। আধুনিক প্রত্নতত্ত্ব ও তত্ত্বের বিচার-বিশ্লেষণে জানা যায় যে,মানুষের কর্মকান্ড শুরু হয় প্রায় ২.৫ মিলিয়ন বা ২৫ লক্ষ বছর পূর্বে। প্রায় ২.৪ মিলিয়ন বছর পর্যন্ত কোন লিখিত উপাদান পাওয়া যায় না।অলিখিত উপাদান যেমন- জীবাশ্ম, হাড়গোড়, যন্ত্রপাতি, অস্ত্রশস্ত্র, আসবাবপত্র, সৌধমালা, রূপকথা, কাহিনীমালা, পালা, গান, নকশা, মানচিত্র, প্রভৃতি একমাত্র উৎস।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তিবর্গের ভূমিকা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তিবর্গের ভূমিকা

(২) ঐতিহাসিক কাল : মানব ইতিহাসের যে সময়ের ওপর অলিখিত উপাত্তের সাথে সাথে লিখিত বিবরণও পাওয়া যায় তাকে ঐতিহাসিক কাল বলে। লিখিত উৎসের মধ্যে অতি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, লিপিমালা থেকে শুরু করে সকল সন্ধি, চুক্তি, দিনলিপি, মুদ্রিত পুস্তক ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত আছে।

(৩) সুপ্ত-ঐতিহাসিক কাল : মানব সভ্যতার যে যুগের ওপর লিখিত উৎস আছে বলে সন্দেহ হয় কিন্তু সেগুলো এখন পর্যন্ত পাঠোদ্ধার সম্ভব হয় নি তাকে সুপ্ত-ঐতিহাসিক কাল বলে। ১৮২২ সালে হাইরোগ্লিফিক বর্ণমালার পাঠোদ্ধার পর্যন্ত মিসরীয় সভ্যতা গুপ্ত-ঐতিহাসিক যুগের সভ্যতা বলেই পরিচিত ছিল। বর্তমানে ভারত উপমহাদেশের সিন্ধু সভ্যতা এ শ্রেণীতে পড়ে। ইতিহাসের জনক কে

বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ও কালক্রম (Chronology) অনুসারে মানব সভ্যতা চার ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-
১। প্রাচীন যুগ
২। মধ্যযুগ
৩। আধুনিক যুগ  এবং
৪। উত্তর-আধুনিক যুগ

(১) প্রাচীন যুগঃ অতি প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে খ্রিস্টীয় ৪৭৬ সাল পর্যন্ত সময়কালকে প্রাচীন যুগ বলে। এ দীর্ঘ সময়ের শেষ আট-দশ হাজার বছরে মানুষ সত্যতার স্তরে উপনীত হয়, এবং মেসোপটেমিয়া, মিসর, চীন, পারস্য, গ্রিক, রোমান প্রভৃতি বড় বড় সভ্যতা গড়ে ওঠে। ৪৭৬ সালে জার্মান জাতির হাতে পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের পতনের আগ পর্যন্ত সময়কাল প্রাচীন যুগ।

(২) মধ্যযুগ: ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী রোম জার্মান জাতি কর্তৃক দখল করার পর থেকে ১৪৫৩ সালে ওসমানীয় (Ottoman) তুর্কিদের হাতে পূর্ব রোমান (বাইজেন্টাইন) সাম্রাজ্যের রাজধানী কনসটেন্টিনোপলের পতন পর্যন্ত সময়কালকে মধ্যযুগ বলে অভিহিত করা হয়। এ সময়ে গ্রিক-রোমানদের ইহজাগতিক চিন্তা-চেতনার স্থলে পারলৌকিক চিন্তা-ভাবনা স্থান পায়। এসময় খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্ম মানুষের সামগ্রিক জীবনযাত্রা, চিন্তাভাবনা নিয়ন্ত্রণে প্রয়াসী হয়। সাধারণত এ যুগকে বিশ্বাসের যুগ (Age of Faith) বলা হয়।

(৩)আধুনিক যুগ : খ্রিস্টীয় ১৪৫৩ সালে তুর্কি মুসলিমদের দ্বারা কনসটেন্টিনোপল দখলের পর হতে ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষাবধি সময়কালকে সাধারণভাবে আধুনিক যুগ বলা হয়।

(৪) উত্তর-আধুনিক যুগ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৪৫ হতে) বর্তমান পর্যন্ত সময়কালকে উত্তর-আধুনিক যুগ বলে অভিহিত করা হয়। ইতিহাসের জনক কে

ইতিহাসের কার্যকারণঃ

ইতিহাসচর্চার মূল উদ্দেশ্য হল প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে যে শক্তি ক্রিয়াশীল বা কার্যকর তাকে ব্যাখ্যা করা। এজন্য ঐতিহাসিকরা কোন ঘটনা ব্যাখ্যার সময় তার কারণগুলো চিহ্নিত করে সে প্রেক্ষাপটে ঘটনার বিবরণ দেন। ঐতিহাসিকের ধর্মই হল কোনো ঘটনা কীভাবে ঘটল? কেন ঘটল? -সে বিষয়ে অনবরত প্রশ্ন করে যাওয়া।যে পর্যন্ত তিনি মনমত উত্তর না পান,সে পর্যন্ত তাকে প্রশ্ন করে যেতে হয়,এর মধ্যে কোন বিরাম নেই।

ইতিহাসের জনক কে ? ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা, ঐতি কাল 3 টি
ইতিহাসের জনক কে ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা, ঐতি কাল 3 টি

ঐতিহাসিক ঘটনার কারণ উদঘাটনের অভিপ্রায়টি অতি পুরোনো। ইতিহাসের জনক প্রাচীন গ্রিক ঐতিহাসিক হিরোডোটাস খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে ইতিহাস ঘটনার কার্যকারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তার মতে ঐতিহাসিকের আংশিক দায়িত্ব হল ঘটনা সংঘটিত হওয়ার মূলে সক্রিয় কারণ উন্মোচন করা। তাই তিনি শুধু ঘটনাবলীয় বর্ণনায় মনোযোগ সীমিত না রেখে ঘটনাগুলোর একটি মানবীয় প্রেক্ষাপট বের করে ঐগুলো ঘটার সম্ভাব্য কারণ বিশ্লেষণের চেষ্টা করেন।‘গ্রিক পারসিক যুদ্ধের ইতিহাস’ গ্রন্থে তিনি উল্লেখ করেন : গ্রিক ও অগ্রিকদের কার্যাবলি সংরক্ষণ এবং সর্বোপরি তারা পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার পশ্চাতে নিহিত কারণ তুলে ধরাই এ গ্রন্থের প্রধান উদ্দেশ্য। ইতিহাসের জনক কে

ইতিহাস দর্শনঃ

ইতিহাস হলো তথ্যপ্রমাণ ভিত্তিক মানুষের অতীত কর্মকান্ডের বিবরণ। আর ইতিহাস দর্শন বলতে সাধারণভাবে ঐতিহাসিক ধারার সামগ্রিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণকে বুঝায় । ইতিহাস দার্শনিকদের ইতিহাস সংক্রান্ত চিন্তাচেতনা, তাদের প্রজ্ঞা, মননশীলতা, অতীত ঘটনাবলী অনুধাবন ও যথাযথভাবে বর্ণনা করা অর্থাৎ ইতিহাস সম্পর্কিত জ্ঞান ও অভিব্যক্তির যথাযথ প্রকাশই হলো ইতিহাস দর্শন। ইতিহাস দর্শনের মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে ইতিহাসের কার্যপ্রণালী ও গতিপ্রকৃতি জানা যায় এবং ইতিহাস জ্ঞানের একাধিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সম্ভব হয়।

  • ইতিহাসের জনক কে – হেরোডোটাস ।
  • আধুনিক ইতিহাসের জনক কে – বিশপ উইলিয়াম স্টাবস ।
  • বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাসের জনক কে – থুকিডাইডিস ।
  • ইসলামের ইতিহাসের জনক কে – আল মাসুদী ।
  • বাংলাদেশের ইতিহাসের জনক কে – বাংলাদেশের ইতিহাসের জনক হিসেবেও হেরোডোটাসকেই বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের আলাদা কোন ইতিহাসের জনক নেই সেই কারণে হেরোডোটাসকেই বাংলাদেশের ইতিহাসের জনক হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে।

Leave a Comment