বঙ্গভঙ্গের কারণ। হিন্দু সমাজ কেন এর বিরোধিতা করেছিল?

ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসন একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। তাদের একটি নীতি ছিল Divide and Rule. ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গে তারা এই নীতির সফল প্রয়োগ ঘটায়। সামাজিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক কারণে বঙ্গভঙ্গ হলেও বঙ্গভঙ্গের কারণ হিসেবে অন্যতম ছিল ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দমন। বঙ্গভঙ্গের ফলে হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে দুই রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মুসলিমরা ব্রিটিশদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও কলকাতার হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা করে।

বঙ্গভঙ্গের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: 

১৮৫৪ সালে লর্ড ডালহৌসি বাংলা লেফটেন্যান্ট গভর্নর এর উপর ব্যাপক প্রশাসনিক ভার চাপিয়ে দেন। ১৮৬৬ সালে স্যার উইলিয়াম গ্রে তার পুনরাবৃত্তি করেন। একই বছর উড়িষ্যায় দূর্ভিক্ষ হয়। বাংলা প্রদেশ বিশাল হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এই দূর্ভিক্ষ হয় বলে তদন্তকারীরা জানান। ১৮৭২ সালে স্যার জন ক্যাম্পবেল বাংলা প্রদেশের বিশালতার কারণে শাসনকার্যে অসুবিধার কথা জানান। ১৯০১ সালে মধ্য প্রদেশের চীফ কমিশনার এনড্রো ফ্রেজার আলাদা অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব দেন। উপরোক্ত ঘটনা এবং প্রস্তাব সমূহ বিবেচনা করে লর্ড কার্জন ১৯শে জুলাই, ১৯০৫ সালে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে এবং বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয় একই বছরের ১৬ই অক্টোবরে।

তার পরিকল্পনা মোতাবেক আসাম নিয়ে পূর্ব বাংলা ও আসাম’ প্রদেশ গঠিত হলে ভারত সচিব ব্রডারিক অনুমোদন দেন। নতুন প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা। এসময় সংযুক্ত বাংলা প্রদেশ জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৮০ লক্ষ। নতুন প্রদেশ গঠিত হবে ১০৬,৫৪০ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে। এতে মোট জনসংখ্যার বাস থাকবে ৩ কোটি ১০ লক্ষ। ১ কোটি ২০ লক্ষ হবে হিন্দু এবং ১ কোটি ৮০ লক্ষ হবে মুসলিম। (সূত্র: সুফিয়া আহমেদ, বাংলার মুসলিম সম্প্রদায়, পৃষ্ঠা: ১২১) স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার বাংলাদেশের লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিযুক্ত হন। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় বাংলা প্রদেশ। কার রাজধানী কলকাতা। আরেকটি গঠিত হয়েছিল পূর্ববাংলা এবং আসাম। যার রাজধানী ঢাকা।

বঙ্গভঙ্গে নবগঠিত অন্তর্ভুক্ত  বিভাগ ও জেলাসমূহঃ

ঢাকা (রাজধানী) — ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, বাকেরগঞ্জ ও সুন্দরবন।
চট্টগ্রাম — চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, ত্রিপুরা, কুমিল্লা।
রাজশাহী — রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া, পাবনা, মালদহ ও জলপাইগুড়ি।
সুরমা উপত্যকা ও পার্বত্য বিভাগ — সিলেট, কাছাড়, লুসাই পার্বত্য জেলা, নাগা পার্বত্য জেলা, খাসিয়া জয়ন্তিয়া পার্বত্য জেলা ও গারো পার্বত্য জেলা।
আসাম উপত্যকা — গোয়ালপাড়া, কামরূপ, দাররাং, নওগাও, শিবসাগর ও লখিমপুর জেলা।
দেশীয় রাজ্য — পার্বত্য ত্রিপুরা ও মনিপুর।

বঙ্গভঙ্গের কারণ: 

আপাতদৃষ্টিতে বাংলা প্রদেশের বিশালতার কারণে বঙ্গভঙ্গ হলেও এর পেছনে ছিল নানা ধরনের কারণ প্রশাসনিক কারণ, অর্থনৈতিক কারণ, সামাজিক কারণ ইত্যাদি ছিল বঙ্গভঙ্গের কারণ।

১) প্রশাসনিক কারণ: 

গবেষকরা মনে করেন বঙ্গভঙ্গের কারণ (প্রধান) হলো প্রশাসনিক। লর্ড কার্জনের সময় বাংলা-বিহার-উড়িষ্যা এবং আসাম এর কিছু অংশ নিয়ে বাংলা প্রেসিডেন্সি গঠিত ছিল। এর আয়তন ছিল ১ লক্ষ ৭৯ হাজার বর্গমাইল। এত বড় একটি প্রদেশ একজন গভর্নরের দ্বারা শাসন করা সম্ভব নয় বলে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য বড়লাট লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়। (বঙ্গভঙ্গের কারণ)

২) রাজনৈতিক কারণ: 

ইংরেজরা ছিল তীক্ষ্ণ বুদ্ধির অধিকারী। তাদের বিরুদ্ধে সমগ্র ভারত বর্ষের আন্দোলন ছিল কলকাতা কেন্দ্রিক। কলকাতার বাঙালি হিন্দু সমাজ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সবচেয়ে সোচ্চার ছিলেন। এই আন্দোলন দমন করতে বঙ্গভঙ্গ হয়।

ক) জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দমন: ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস নামে একটি রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়। এর ফলে ভারতীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। কংগ্রেসের নেতৃত্বে সমগ্র ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। যা পরিচালিত হতো কলকাতা থেকে। সুচতুর ইংরেজ সরকার এই জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দমন করতে বঙ্গভঙ্গ করে আন্দোলনকারীদের শক্তি হ্রাস করতে উদ্যোগী হয়। ইংরেজরা বাংলার কৃষকদের নিকট থেকেই বেশি বাধা পাচ্ছিল। বাংলা কৃষক আন্দোলন ধ্বংস করা বঙ্গভঙ্গের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল। (বঙ্গভঙ্গের কারণ)

) মুসলমানদের দাবি: স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিমদের প্রতিনিধি হিসেবে বঙ্গভঙ্গের পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন। তিনি প্রচার করেন বঙ্গভঙ্গ হলে পূর্ব বাংলার মুসলিমরা ভাগ্যোন্নয়নের সুযোগ পাবে। হিন্দুদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কলকাতার ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে।১৯০৪ সালে লর্ড কার্জন তার বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনা দিয়ে পূর্ববাংলা সফর করলে নবাব সলিমুল্লাহ বড়লাটকে রাজকীয় আতিথেয়তা প্রদান করেন। এসময় সলিমুল্লাহ বঙ্গভঙ্গের পক্ষে মুসলিমদের অভিমত ব্যক্ত করেন।
গ) চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ত্রুটি সংশোধন: চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে নতুন করে জমির খাজনা বৃদ্ধি করার উপায় ছিল না। বঙ্গ প্রদেশ কে দুই ভাগে ভাগ করলে শাসকগোষ্ঠী পূর্ববঙ্গ ও আসাম এর জমি থেকে ইচ্ছামত খাজনা বৃদ্ধি করার সুযোগ লাভ করে। (বঙ্গভঙ্গের কারণ)

৩) অর্থনৈতিক কারণ: 

ব্রিটিশ সরকারের যত উন্নয়ন সব হত ভারতের তৎকালীন রাজধানী কেন্দ্রিক। যাবতীয় অফিস-আদালত, কল কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবকিছুই কলকাতায় ছিল। এর ফলে পূর্ববঙ্গের মুসলিমরা সব ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে। ব্রিটিশ সরকার চিন্তা করে বঙ্গভঙ্গ হলে পূর্ববাংলার মুসলিমরাও কলকাতার হিন্দু সমাজের মত আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা পাবে। এছাড়া ব্রিটিশ সরকার আরও একটি বিষয় বিবেচনা করে।

১৮৭০ সাল থেকে পূর্ব বাংলার প্রধান রপ্তানি দ্রব্য পাট এবং চালের বাণিজ্য চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে করা হতো। আসাম এবং সিলেটের চা এই বন্দর দিয়ে রপ্তানি করার সহজ ছিল। এই প্রেক্ষিতে ইংরেজ শাসকরা চট্টগ্রাম বন্দরকে সামনে রেখে পূর্ব বাংলায় শিল্প-কারখানা স্থাপন করার পরিকল্পনা করে। যা বাস্তবায়ন করতে বঙ্গভঙ্গ প্রয়োজন ছিল।

৪) সামাজিক কারণ: 

অন্যতম প্রধান বঙ্গভঙ্গের কারণ ছিল সামাজিক। হিন্দু সম্প্রদায় ব্রিটিশদের সংস্পর্শে এসে সার্বিক উন্নতি করলেও মুসলিমরা নিজেদের স্বাধীনতা হরণকারী হিসেবে ইংরেজদের থেকে দূরে থাকে এবং ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণ করেনি। এই কারণে ব্রিটিশরা হিন্দুদের প্রতি উদারনীতি এবং মুসলমানদের প্রতি বৈরী নীতি পোষণ করে। মুসলিমরা সামাজিক মর্যাদা, প্রভাব-প্রতিপত্তি হীন একটি দরিদ্র, রিক্ত সম্প্রদায়ে পরিণত হয়। লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা প্রকাশ করলে মুসলিমরা এর প্রতি সমর্থন জানায়।

৫) ধর্মীয় কারণ: 

ইংরেজরা “ভাগ কর ও শাসন কর” নীতির সফল প্রয়োগ এর মাধ্যমে ভারতবর্ষে সফলতা লাভ করে। অবিভক্ত বাংলার পূর্ব অংশে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল। পশ্চিম অংশে হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল। হিন্দু মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য বিনষ্ট করে বিভেদ এবং দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করার জন্য ইংরেজরা বাংলা বিভক্ত করে।

বঙ্গভঙ্গের ফলাফল:

বঙ্গভঙ্গের স্থিতি স্বল্পসময়ের হলেও এর ফলাফল ছিল সুদূর প্রসারী। এতে করে পূর্ববঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমরা লাভবান হয়। ঢাকায় অফিস আদালত, শিক্ষা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়। অন্যদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তারা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন শুরু করে। মুসলমানদের পক্ষ থেকেও একদল বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে। ফরিদপুরের আলিমুজ্জামান ও আরো কয়েকজন মুসলিম স্মারকলিপি পাঠান।

হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরোধিতার কারণ: 

পূর্ববঙ্গের মুসলিম সম্প্রদায় নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গ কে স্বাগত জানালেও হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গ কে মাতৃভূমির অঙ্গচ্ছেদ (বঙ্গমাতার অঙ্গচ্ছেদ) হিসেবে বর্ণনা করে। হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দ, বাংলা পত্রপত্রিকা, ভারত এবং ইংল্যান্ডের ইংরেজি পত্রিকাগুলো হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করে। নিচের হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরোধিতার কারণ উল্লেখ করা হলো:

১) বাণিজ্যিক কারণ: কলকাতার বণিকরা আশঙ্কা করে, চট্টগ্রাম বন্দর সচল এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেলে কলকাতা বন্দর পূর্বের মত গুরুত্ব পাবে না। এই কারণে বণিকদের বেশি মুনাফা অর্জন না করার সম্ভাবনা দেখা দেয়। কলকাতার সংবাদপত্র মালিকরাও তাদের পত্রিকার চাহিদা কমে যাওয়ার ভয়ে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে।

২) জমিদারি বিলুপ্তির আশঙ্কা: পূর্ববঙ্গের বেশিরভাগ জমিদারির মালিক ছিলেন কলকাতার হিন্দুরা। বাংলা প্রদেশ বিভক্ত হওয়াতে তারা চিন্তা করল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে এবং পরবর্তীতে জমিদারি নাও থাকতে পারে। ফলে কলকাতার জমিদাররা সমন্বিতভাবে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে। (বঙ্গভঙ্গের কারণ)

৩) রাজনীতিবিদদের সন্দেহ: বঙ্গভঙ্গের ফলে ঢাকার নবাবরা পূর্ববঙ্গে প্রভাব বিস্তার করবে এটা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু এতে এতদিন ধরে পূর্ববঙ্গের রাজনীতিতে ছড়ি ঘোরানো কলকাতার হিন্দু রাজনীতিবিদরা তাদের প্রভাব কমে যাবে বলে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে। এছাড়া পূর্ববঙ্গে সদ্য প্রতিষ্ঠিত মুসলিম লীগ ভারতীয় কংগ্রেসের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে চিন্তা করেও হিন্দুরা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। (বঙ্গভঙ্গের কারণ)

৪) পূর্ববঙ্গের শিক্ষার উন্নয়ন: বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ববাংলায় স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এরফলে কলকাতার পণ্ডিতরা চিন্তা করে শিক্ষার্থীরা ঢাকাতে পড়াশুনা করবে এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে কলকাতার ছাত্রদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়াবে। তাই তারা বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে।

মূল্যায়ন: 

সার্বিক ভাবে বলা যায় যে, পূর্ববাংলার কোনরকম উন্নয়ন হোক এটা কলকাতার হিন্দুরা কখনো চায়নি। যতটা না নিজেদের ক্ষতির আশঙ্কায় হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে, তার চেয়ে বেশি পরিমাণ বিরোধিতা করেছিল পূর্ববাংলা এবং ঢাকার উন্নয়নের ঈর্ষায় ঈর্ষান্বিত হয়ে। পূর্ব বাংলা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়াতে হিন্দুরা একে মুসলিমদের বিজয় বলে অভিহিত করে। উপরোক্ত কারণগুলো প্রেক্ষিতে হিন্দু সম্প্রদায় বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে।

বঙ্গভঙ্গ রদ: 

হিন্দুদের বিভিন্ন আন্দোলনের চাপে ১৯১১ সালে দিল্লির রাজদরবারে রাজা পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদ করার ঘোষণা দেন। ভাষাতাত্ত্বিক এক নতুন বিভক্তির মাধ্যমে হিন্দি, ওড়িয়া এবং অসমীয়া অঞ্চলগুলো বঙ্গ হতে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনা হয়। এরই সাথে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে নয়া দিল্লীতে স্থানান্তর করা হয়। ১৯০৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বঙ্গভঙ্গ রদ করার প্রস্তাবকদের জন্য এক মর্মস্পর্শী গান আমার সোনার বাংলা লেখেন, যা ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতে পরিণত হয়। (বঙ্গভঙ্গের কারণ)

উপসংহার: বাংলা প্রদেশের বিশালতার কারণে সর্বপ্রথম বঙ্গভঙ্গের ধারণার সৃষ্টি হয়। লর্ড কার্জন এর মাধ্যমে বঙ্গভঙ্গ হলে অবহেলিত পূর্ববাংলা উন্নয়নের মুখ দেখে। কিন্তু স্বার্থপর হিন্দুসমাজের বিরোধিতার কারণে পূর্ব বাংলার উন্নয়ন বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পরবর্তীতে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে পড়ে। তবে 1906 সালে নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে মুসলিমদের স্বার্থ সংরক্ষণ কারী দল হিসেবে মুসলিম লীগের জন্ম হয়।

4 thoughts on “বঙ্গভঙ্গের কারণ। হিন্দু সমাজ কেন এর বিরোধিতা করেছিল?”

Leave a Comment

Exit mobile version