গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব ও গ্রিকদের অবদান এবং এথেন্স ও স্পার্টা।

প্রশ্নঃ গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব এবং নগর রাষ্ট্র হিসেবে এথেন্স ও স্পার্টার ইতিহাস এবং গ্রিকদের অবদান কি ছিল?

গ্রিক সভ্যতার উদ্ভবঃ

মানবসভ্যতার ইতিহাসে গ্রিকরা তাদের উজ্জ্বল অতীতের জন্য ঈর্ষণীয় গৌরবের অধিকারী। প্রাচীন গ্রিসের ইতিহাস কে আলোচনা সুবিধার জন্য হোমার এবং মহাকাব্যের যুগ, গীতিকবিতার যুগ এবং ক্লাসিকাল যুগ এই তিন ভাগে বিভক্ত করা যায়। প্রাচীন গ্রিসে কোন অখন্ড রাষ্ট্র ছিলনা। এখানে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য নগররাষ্ট্র, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্পার্টা এবং এথেন্স।

১) হোমার এবং মহাকাব্যীয় যুগ (১২০০-৮০০ খ্রীস্ট পূর্বাব্দ)

প্রাচীন গ্রিসের অন্ধ কবি হোমারের ইলিয়াড ও ওডিসি ২ টি মহাকাব্য। কাব্য ২টির তথ্যানুযায়ী মহাকাব্যীয়যুগ শুরু হয়েছে মাইসেনীয় সভ্যতা পতনের পর। হোমারীয় যুগে গ্রীকগণ পূর্ববর্তী মাইসেনীয় সভ্যতার ধ্বংসযজ্ঞ থেকে উন্নতি সাধন করে এবং শক্তিশালী হয়ে ওঠে। গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব

২) গীতিকবিতার যুগ (৮০০-৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)

হোমারীয় যুগ এরপর শুরু হয় গীতিকবিতার যুগ। ভূমির চাহিদা বাড়ায় এযুগের গ্রীকরা পূর্বদিকে কৃষ্ণ সাগর, পশ্চিম দিকে স্পেন পর্যন্ত সামরিক অভিযান প্রেরণ করে। দূরদূরান্ত সম্পর্কে জানতে এবং বাণিজ্যিক প্রয়োজনে তারা দেশ ত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়। 750 থেকে 550 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের মধ্যে গ্রীকরা মূল ভূখন্ড থেকে ইজিয়ান সাগরের উপকূল, সিসিলি এবং স্পেনে বসতি স্থাপন করে। এই যুগে এথেন্স ও স্পার্টার অভ্যুদয় ঘটে এবং কবিরা গীতি কবিতা রচনা করেন বলে এই যুগকে গীতিকবিতার যুগ বলা হয়। এই যুগে গণতন্ত্রের বিকাশ লাভ করে।

৩) ক্লাসিকাল যুগ (৫০০-৩৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)

যুদ্ধ-বিগ্রহ এই যুগের বড় বৈশিষ্ট্য। গ্রীকরা পারসিকদের পরাজিত করে খ্যাতি অর্জন করে। গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব

নগররাষ্ট্র স্পার্টা ও এথেন্সঃ 

প্রাচীন গ্রিস আয়তনে খুব ছোট এবং অসংখ্য নগর রাষ্ট্রের সমষ্টি ছিল। সমগ্র গ্রীস ছিল ছোট-বড় পাহাড়ে পূর্ণ। বিচ্ছিন্ন পাহাড়ে ঘেরা খন্ড খন্ড অংশের জনগণের স্বাতন্ত্র্যবোধ এবং স্বাধীনতার স্পৃহা থেকে পুর বা নগর গড়ে ওঠে। ওর মধ্যে প্রধান স্পার্টা ও এথেন্স। স্পার্টার আয়তন ছিল ৩,৩৬০ বর্গমাইল এবং এথেন্সের আয়তন ছিল ১০৬০ বর্গমাইল। এথেন্স ছিল গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং স্পার্টা রক্ষণশীল এবং অনুন্নত সংস্কৃতির অধিকারী।

স্পার্টা নগর রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যঃ

স্পার্টা শব্দের অর্থ কর্ষিত বা বোনা জমি। এটি সমুদ্র থেকে দূরে এবং পাহাড় ঘেরা ছিল। ৫টি গ্রামের সমন্বয়ে এটি প্রথম গড়ে ওঠে। স্পার্টা নগর রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য হলো নিচে বর্ণনা করা হলোঃ গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব

১) শ্রেণীবিভক্ত সমাজ: স্পার্টার সমাজ ছিল তিন ভাগে বিভক্ত। যথাক্রমে স্পার্টান,পেরিওসি এবং হেলট। স্পার্টানরা ছিল বিজেতা ডুরিয়ান বংশোদ্ভূত গ্রিক এবং প্রথম শ্রেণীর নাগরিক। তারা তারা রাষ্ট্রীয় জমির মালিক এবং শাসক ছিল। তারা পূর্ণ রাজনৈতিক অধিকার এবং নাগরিক সুবিধা ভোগ করতো। জনসংখ্যায় তাদের অবস্থান ছিল মাত্র ৫০ ভাগের ১ ভাগ।পেরিওসি অর্থ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বাসিন্দা। তারা স্বাধীন হলেও তাদের কোন রাজনৈতিক অধিকার ছিল না। খারাপ জমির মালিক হতে পারত কিন্তু রাষ্ট্রকে প্রচুর পরিমাণে কর দিতে হতো। সংখ্যানুপাতে একজন স্পার্টান: তিনজন পেরিওসি (১:৩)।
হেলট বলতে সার্ফ বা ক্রীতদাসদের বোঝানো হতো তারা স্পার্টারর আদিম অধিবাসী এবং তাদের বংশধর। তারা সমাজের তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক এবং রাষ্ট্রের সম্পত্তি ছিল। তারা সব সময় প্রভুর প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপন্ন করতে বাধ্য ছিল এবং নাগরিক সুবিধা তাদের ছিল না।

২) স্বৈরাচারী একনায়কত্বমূলক শাসনপদ্ধতি: স্পার্টার প্রচলিত শাসন পদ্ধতি ছিল স্বৈরাচারী একনায়কত্বমূলক। এ শাসন তন্ত্র অনুযায়ী দু’জন রাজা, একটি সিনেট, একটি সাধারণ পরিষদ এবং ‘ইফর’ নামধারী 5 জন ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি নির্বাহী পরিষদের উপর স্পার্টার শাসন ন্যস্ত ছিল। যুগ মহারাজা একে অপরের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করত সিনেট ছিল বয়স্কদের প্রতিষ্ঠান। এটি গঠিত ছিল ২ জন রাজা এবং ৬০ এর অধিক ২৮ জন বয়োবৃদ্ধ কে নিয়ে।

সাধারণ পরিষদ: ৩০ বছর বয়স্ক সকল স্বীকৃত নাগরিক নিয়ে গঠিত হতো সাধারণ পরিষদ। এই পরিষদ আইন প্রণয়ন করত এবং শান্তি ও যুদ্ধের প্রশ্নটি মীমাংসা করত। স্পার্টায় রাজা ছিলেন সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং একমাত্র তিনিই যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারতেন। স্পার্টার শাসনতন্ত্রের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল ব্যাপক পুলিশি ক্ষমতা সম্পন্ন ‘ইফরগণ’। জরুরী প্রয়োজনে তারা রাজাকে বন্দী করতে পারতো এবং স্পার্টার শাসনতন্ত্রে রাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, অভিজাততন্ত্রের সমন্বয় ঘটে ছিল।

৩) সমর বাদী নীতি: স্পার্টা ছিল পশ্চাৎপদ নগররাষ্ট্র। এর কারণ ছিল তার সমর বাদী নীতি। স্পার্টানদের জীবনের সমস্ত দিক নিয়ন্ত্রিত হত সামরিক প্রয়োজন দ্বারা। সমগ্র স্পার্টা যেন ছিল যুদ্ধের বিরাট ক্যাম্প। স্বাস্থ্যবাণ শিশুকে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় শক্তি বিবেচনা করা হতো এবং দুর্বল শিশুকে ফেলে আসা হতো। ৭ বছর এরপর তাকে বাধ্যতামূলক ব্যারাকে জীবনযাপন করতে হতো। ৩০ বছর পূর্ণ হলে পুরুষ স্পার্টান কে পূর্ণবয়স্ক ধরা হতো এবং ৬০ হলে তাকে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ও সামরিক ব্যবস্থা থেকে মুক্তি দেয়া হতো। ২০ বছরের পর মেয়েরা বিয়ের অনুমতি পেত এবং সরকারি ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেত।

৪) পরিবার প্রতিপালনের জন্য জমি দান: যুদ্ধ শিক্ষা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সারাবছর সময় ব্যয় করা হতো বলে পরিবার প্রতি পালনের জন্য স্পার্টার সামন্ত নাগরিকদের বড় বড় জমিদারি দেয়া হতো। পুত্র উত্তরাধিকার সূত্রে এই জমি লাভ করত কিন্তু জমি বিক্রি করার অধিকার কারো ছিল না। ক্রীতদাস বা সার্ফ বা হেলটরা জমি চাষ করত।

৫) প্রগতি এবং পরিবর্তন-বিরোধী: স্পার্টান রা সকল পরিবর্তন এবং প্রগতির বিরোধী ছিল। তাই তাদেরকে বিদেশ ভ্রমণ এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে নিরুৎসাহিত করা হতো। শুধু প্রাথমিক পড়ালেখা ছিল। কাব্যচর্চা নিষিদ্ধ ছিল। তবে রণসংগীত নিষিদ্ধ ছিল না। শারীরিক কসরত, বর্ষা নিক্ষেপে তারা অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। তারা অনাড়ম্বর জীবন যাপন করত।

৬) কৃষি নির্ভর অর্থনীতি: স্পার্টা এবং লোকোনিয়ার ভূমি উর্বর হওয়ায় তারা প্রধানত কৃষির উপর নির্ভরশীল ছিল। তবে রক্ষনশীলতার কারণে শিল্প বাণিজ্যের বিকাশ ঘটেনি। গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব

এথেন্স নগর রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যঃ 

গ্রিসের এ্যাটিকা নামক এক পার্বত্য এবং অনুর্বর স্থানে এথেন্স নগর রাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল। এ্যাটিকায় গ্রীকদের শান্তিপূর্ণ এবং ধীরে ধীরে প্রবেশ ঘটায় এখানে কোন যুদ্ধবাজ শাসকগোষ্ঠীর উদয় ঘটেনি। এ্যাটিকায় কৃষির বিকাশ তেমন ঘটেনি। এথেন্স নগর রাষ্ট্রের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলঃ

১) সামাজিক অবস্থা: এথেন্স এর নাগরিক সমাজ ব্যবস্থা চার ভাগে বিভক্ত ছিল। ১) অভিজাত শ্রেণী ২) সাধারন জনগন বা কৃষক, বণিক, নাবিক ইত্যাদি ৩) আগত জনগণ ৪) দাস শ্রেণি। প্রথম তিন শ্রেণী ছিল স্বাধীন এবং অপর শ্রেণী পরাধীন ছিল। তবে অভিজাত শ্রেণীর রাজনৈতিক অধিকার ছিল এবং বাকি শ্রেণীদের ছিলনা।

২) শিল্প-বাণিজ্য নির্ভর অর্থনীতি ও ঋণদান প্রথা: এ্যাটিকার প্রধান সম্পদ ছিল খনিজ ধাতু, বন্দর ও পোতাশ্রয়। জলপাই ও আঙ্গুরের বাগান কৃষি সম্পদ। ভূমি অনুর্বর হওয়াই এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার হওয়ার সাথে সাথে এথেন্স বাইরে খাদ্যশস্য আমদানি করতে বাধ্য হয়। আমদানিকৃত খাদ্যশস্যের দাম বেশি হওয়ায় গরিব চাষিরা ক্রমান্বয়ে জমিজমা, স্ত্রী-পুত্র এবং নিজেদেরকে বন্ধক রাখতে বাধ্য হত। শেষ পর্যন্ত ঋণের দায়ে তারা দাসে পরিণত হতো। খ্রিস্টপূর্ব 750 অব্দ থেকে গ্রীকরা সমুদ্রপথে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে অসংখ্য উপনিবেশ গড়ে তোলে। উপনিবেশ স্থাপন এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য প্রাধান্য লাভ এর ফলে গ্রিসে মধ্যবিত্ত শ্রেণী গড়ে উঠে।

৩) শাসন ব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের বিকাশ: প্রাচীন গ্রিসে গণতন্ত্রের বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক অধিকার আদায় এবং ঋণ দাসত্ব বাতিলের দাবিতে শ্রেণীবিভক্ত এথেনীয় সমাজ সংগঠিত হওয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটেছিল পর্যায়ক্রমে। সোলন, ক্লিসথিনিস, পেরিক্লিস প্রমুখ গ্রীসে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অগ্রনায়ক। তবে গণতন্ত্রের পুরনো বিকাশ ঘটে পেরিক্লিসের আমলে।

পরিশেষে বলতে পারি, প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে গণতান্ত্রিক নগররাষ্ট্র এথেন্সে নগর কেন্দ্রিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। বিভিন্ন শিল্প কর্ম, স্থাপত্য, ভাস্কর্য, মৃৎপাত্র ইত্যাদি এথেন্সীয় স্বর্ণযুগের পরিচয় বহন করে। পাশাপাশি রক্ষণশীল স্পার্টানরা সামরিক সাফল্য ও কঠোর বিধিনিষেধের কারণে এক শৃংখল জাতিতে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু সামরিক শক্তির সাহায্যে স্পার্টানরা হেলটদের পদানত রাখতে পারলেও মানব প্রগতির ক্ষেত্রে তারা কোন অবদান রাখতে পারেনি।

গ্রিকদের সবচেয়ে বড় অবদানঃ

গ্রিকদের সবচেয়ে বড় অবদান ছিল দর্শন চর্চায়। প্রথম দিকের বিখ্যাত দার্শনিক ছিলেন থ্যালেস। থ্যালেস কল্পকাহিনীর বদলে প্রথম সূর্যগ্রহণের প্রাকৃতিক কারণ ব্যাখ্যা করেন। ধীরে ধীরে গ্রিসে এক ধরনের যুক্তিবাদী দার্শনিকের আবির্ভাব ঘটে। এদের বলা হতাে সফিস্ট। প্রােটাগােরাস ছিলেন সফিস্ট সম্প্রদায়ের সবচেয়ে প্রাচীন বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক। সৃষ্টির অজানা রহস্য নয়, বরং মানুষকে মানদণ্ড বিবেচনা করে সে আলােকে দর্শনের আলােচনা ও ভাষাবিজ্ঞানে অবদানের জন্য সুবিখ্যাত হয়ে আছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, ‘Man is the measure of all things’। গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব

সক্রেটিসঃ

সক্রেটিস ছিলেন গ্রিসের দার্শনিকদের মধ্যে সবচেয়ে খ্যাতিমান। অন্যায় শাসনের প্রতিবাদ করায় গ্রিসের শাসক গােষ্ঠী ৩৯৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এ মহান দার্শনিককে হেমলক লতার তৈরি বিষ খাইয়ে হত্যা করে। মৃত্যুর পূর্বে তার শেষ বাক্য ছিল, ‘Crito, I owe a cock to Asclep1LS, will you remember to pay the debt? (“ক্রিটো, অ্যাসক্লেপিয়াস আমাদের কাছে একটি মােরগ পায়, তার ঋণ পরিশােধ করতে ভুলাে না যেন”)। অ্যাসক্লেপিয়াস হচ্ছে গ্রিকদের আরোগ্য লাভের দেবতা। সক্রেটিসের শেষকথা থেকে বােঝা যায়, তিনি বুঝাতে চেয়েছিলেন মৃত্যু হলাে আরােগ্য এবং দেহ থেকে আত্মার মুক্তি। সক্রেটিসকে ‘সব জ্ঞানীদের গুরু’ বলা হয়। সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি –
– Know thyself.
– Slanderers do not hurt me because they do not hit me.
– Education is the kindling of a flame, not the filling of a vessel.
– I die, you to live which is better only God knows.
– An unexamined life is not worth living.
– Knowledge is virtue (জ্ঞানই পূণ্য)।

গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব

প্লেটোঃ 

সক্রেটিসের ছাত্র দার্শনিক প্লেটো গ্রিক দর্শনকে চরম উন্নতির দিকে নিয়ে যান। তিনি তাঁর চিন্তাগুলাে ধরে রাখেন ‘দি রিপাবলিক’ নামক গ্রন্থ রচনা করে। প্লেটো ৩৮৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে দর্শনের স্কুল ‘Akademia‘ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সক্রেটিসের শিক্ষার বক্তব্যগুলাে নিয়ে ‘ডায়ালগস অব সক্রেটিস’ নামে আরেকটি গ্রন্থ রচনা করেন। প্লেটোর বিখ্যাত উক্তি- “Krlue is Knowledge and Education is the main thing to acquire virtue.” গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব

এরিস্টটলঃ

প্লেটোর ছাত্র এরিস্টটল ও একজন বড় দার্শনিক ছিলেন। তাঁর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম ‘দ্যা পলিটিক্স। তিনি ‘লাইসিয়াম”- এর প্রতিষ্ঠাতা। এরিস্টটল আলেকজান্ডারের গৃহশিক্ষক ছিলেন। এরিস্টটলের উক্তি – গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব
– মানুষ সামাজিক ও রাজনৈতিক জীব।
– যে ব্যক্তি সমাজে বাস করেনা সে হয় দেবতা না হয় পণ্ড।
– আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।
– সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্র কর্তৃক মনােনীত পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান।
– বল, শক্তি এবং লােভ লালসা মানুষের মধ্যে জন্মগতভাবে অসমভাবে বন্টিত।
– রাষ্ট্র হল পরিবারের সম্প্রসারিত ফল।
– মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই রাজনীতির কবি। গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদিঃ

❖ পৃথিবীর প্রথম মানচিত্র অঙ্কন করেছিলেন – গ্রিক বিজ্ঞানীরা।

❖ সর্বপ্রথম পৃথিবীর মানচিত্র অঙ্কন করেন – গ্রিক দার্শনিক আনাক্সিমান্ডোস।

❖ পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা কক্ষপথে আবর্তিত হয় তা প্রথম প্রমাণ করেছিলেন – গ্রিক বিজ্ঞানীরা।

❖ বিখ্যাত গ্রিক গণিতবিদ ‘পিথাগােরাস’ জন্ম নিয়েছিলেন – খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে।.

❖ অন্ধ গ্রিক মহাকবি হােমার হাজার হাজার বছরের পুরােনাে কাহিনী নিয়ে রচনা করেন – মহাকাব্য ইলিয়াড এবং ওডিসি।

❖ ‘অন্ধ পাখি’ বলা হয় – গ্রিক মহাকবি হােমারকে।

❖  গ্রিসের সবচেয়ে জনপ্রিয় নাট্যকার ছিলেন – এস্কাইলাস।

❖ ইতিহাসের জনক বলা হয় – গ্রিক ইতিহাসবেত্তা হেরােডোটাসকে

❖ তিনি আনুমানিক ৪৮৪ খ্রিস্টপূর্বে – বর্তমান তুরস্কের বােদরামে জন্মগ্রহণ করেন।

❖ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ – ‘The Histories‘।

❖ গ্রিসের অন্য খ্যাতিমান ইতিহাসবিদ ছিলেন – ‘থুসিডাইডিস‘।

❖ বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাসের জনক বলা হয় – থুসিডাইডিস।

❖ গ্রিকদের সবচেয়ে বড় অবদান ছিল – দর্শন চর্চায়।

❖ সক্রেটিসকে হত্যা করা হয় – হেমলক লতার তৈরি বিষ খাইয়ে।

❖  ‘সব জ্ঞানীদের গুরু’ বলা হয় – সক্রেটিসকে।

❖  গ্রিক সৌন্দর্য দেবী – আফ্রোদিতি। গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব

❖ গ্রিকদের ‘ফার্টিলিটির দেবী’ বলা হয় – আরটেমিসকে।

❖ সফিস্ট সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়েছে যে দেশে – গ্রিস।

❖ প্লেটো যে দেশে জন্মগ্রহণ করেন – গ্রিস।

❖ দার্শনিক রাজা’র শাসনের কথা কে বলেছেন – প্লেটো।

❖ লজিক বা তর্কশাস্ত্রের জন্ম হয়েছে – গ্রিসে।

❖ যুক্তিবিদ্যার জনক – এরিস্টটল

❖ তিনজন দার্শনিককে Wise men of the old বলা হয় – সক্রেটিস, প্লেটো ও এরিস্টটল।

❖ ইদিপাস হল – নাটক। গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব

❖ History যে ভাষা থেকে উৎপত্তি – গ্রিক।

❖ মৃৎপাত্রের গায়ে চিত্রকর্ম অঙ্কন করা হতাে – প্রাচীন গ্রিসে।

❖ গ্রিসে অলিম্পিক প্রতিযােগিতার জন্ম হয় – খ্রিস্টপূর্ব ৭৭৬ অব্দে। গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব

গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব

Leave a Comment