কার্ডিনাল রিশল্যুর অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি। কার্ডিনাল রিশল্যুর সংস্কার।

ইউরোপের রাজনীতিতে ফ্রান্সকে শক্তিশালী অবস্থানে উপনীত করতে একজন রাজনীতিবিদের অবদান অনস্বীকার্য। তার নাম হল কার্ডিনাল রিশল্যু (Cardinal Richelieu)। সপ্তদশ শতাব্দীতে ইউরোপের ইতিহাসে কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিক এবং কূটনীতিক হলেন রিশল্যু। চতুর্থ হেনরির মৃত্যুর পর ফ্রান্সের সংকট ময় পরিস্থিতিতে ক্ষমতায় আসীন হয়ে অভ্যন্তরীণ সংকট কাটিয়ে উঠে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ফরাসিদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা রিশল্যুর অন্যতম কৃতিত্ব। রিশল্যু সম্পর্কে ঐতিহাসিক রাইকার মন্তব্য করেন, “If Henry IV was the architect of Bourbon France Richelieu was the master mason.কার্ডিনাল রিশল্যুর অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি

কার্ডিনাল রিশল্যুর পরিচয়ঃ

1585 সালে রিশল্যু একটি অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। গির্জার যাজক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। 1614 সালে বিশপ হিসেবে স্টেটস জেনারেলের অধিবেশন এ যোগ দিয়ে বাগ্মীতার মাধ্যমে ফরাসি রাণী মেরি ডি মেডিসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে রাণীর সুপারিশে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর পদ লাভ করেন। রিশল্যুর দক্ষতা দেখে ফ্রান্সের রাজা ত্রয়োদশ লুই 1624 সালে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। 1624 থেকে 1642 সাল পর্যন্ত রিশল্যু ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

কার্ডিনাল রিশল্যুর প্রাথমিক সমস্যাবলীঃ

চতুর্থ হেনরির মৃত্যুর পর ত্রয়োদশ লুই এবং হেনরির স্ত্রীর বিশৃংখল শাসন ব্যবস্থায় আর্থিক সংকটে পড়ে। চতুর্থ হেনরির অর্থ সচিব রাজকোষে যে অর্থ জমা করেছিলেন তার অপচয় হয়। রানী মেডিসি পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন করে স্পেন এবং অস্ট্রিয়ার সাথে বন্ধুত্বতা স্থাপন করেন। হেনরির সময় হারানো প্রভাব প্রতিপত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য অভিজাতরা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। ফরাসি প্রোটেস্ট্যান্টরাও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এরকম পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের রাজনীতিতে কার্ডিনাল রিশল্যুর আবির্ভাব ঘটে। দেশের বাইরেও ফ্রান্সের প্রভাব কমে আসছিল। এজন্য কার্ডিনাল রিশল্যু ফ্রান্সকে একটি সমৃদ্ধ এবং শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত করার জন্য অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করেন।

কার্ডিনাল রিশল্যু কর্তৃক হিউগেনোদের দমনঃ

ফরাসি প্রোটেস্ট্যান্টদের হিউগেনো বলা হত। কার্ডিনাল রিশল্যু নিজে ক্যাথলিক হলেও প্রোটেস্ট্যান্ট হিউগেনোদের প্রতি তার কোন বিদ্বেষ ছিল না। কিন্তু হেনরি হিউগেনোদের রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার (Edict of Nants) অপব্যবহার করলে কার্ডিনাল রিশল্যু সর্বপ্রথম তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। হিউগেনোরা Edict of Nants এর মাধ্যমে একটি সংঘ গঠন করেন। 1620 সালে লা রসেলে তারা স্বতন্ত্র প্রোটেস্ট্যান্ট রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব দেয়। 1625 সালে বিদ্রোহ ঘোষণা করে কার্ডিনাল রিশল্যুর মোতায়েনকৃত ৬টি যুদ্ধজাহাজ দখল করে। ইংল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস (বি:দ্র: এখানে নেদারল্যান্ড লিখা যাবে না) হিউগেনোদের সাহায্য করার জন্য একটি নৌবহর প্রেরণ করেন।কার্ডিনাল রিশল্যু লা রসেল দুর্গ অবরোধ করে হিউগেনোদের পরাজিত করেন। 1629 সালে অ্যালে চুক্তির (Edict of Alais) মাধ্যমে হিউগেনোদের শুধু ধর্মীয় অধিকার দেয়া হয়। তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাতিল করা হয়। ধর্মীয় স্বাধীনতা পেয়ে হিউগেনোরা ফরাসি রাজতন্ত্রের অনুগত হয়। এভাবে কার্ডিনাল রিশল্যুর প্রথম অভ্যন্তরীণ নীতি সফল হয়।

কার্ডিনাল রিশল্যু কর্তৃক অভিজাতদের দমনঃ 

ত্রয়োদশ লুই এর সময় অভিজাতরা শক্তি সঞ্চয় করে।রাজতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ অভিজাতদের দমন করার সিদ্ধান্ত নেন কার্ডিনাল রিশল্যু। এসময় অভিজাতরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব বিভাগে প্রভাব বিস্তার করে। রিশল্যু তাদের দমন এর প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে দুর্গ এবং প্রাসাদ ধ্বংস করেন। অভিজাতদের মল্লযুদ্ধ নিষিদ্ধ করেন। কিন্তু মোন্টসারেনসি বাউটেভিল নামক এক অভিজাত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে মল্লযুদ্ধের আয়োজন করলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অভিজাতরা 1630 সালে রাজমাতা মেরি ডি মেডিসির সহায়তায় কার্ডিনাল রিশল্যুকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করলে রিশল্যু তা নস্যাৎ করেন।ষড়যন্ত্রকারীদের বেশিরভাগই মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। মেরি ডি মেডিসি বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে আশ্রয় গ্রহণ করেন। 1632 সালে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রধান গাস্টন পুনরায় বিদ্রোহ করেন। কিন্তু ফরাসি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে অভিজাতদের পরাজিত করা হয়। বাকি অভিজাতরা বাধ্য হয়ে রাজতন্ত্র কে সমর্থন জানায়।

কার্ডিনাল রিশল্যুর অভ্যন্তরীণ নীতিঃ

রাজতন্ত্র সুদৃঢ়করণঃ ফরাসি রাজতন্ত্র সুদৃঢ় করার জন্য রাষ্ট্রের সকল প্রশাসনিক বিভাগ কেন্দ্রের অধীনে নিয়ে আসেন। গভর্নররা দীর্ঘদিন একই স্থানে কাজ করলে ক্ষমতা সঞ্চার এবং প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এই জন্য তিনি প্রদেশের গভর্নরদের বদলির ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। রাজতন্ত্র বিরোধী লোকজনের বিচারের জন্য বিচারব্যবস্থা সংস্কার করেন। পার্লামেন্ট গুলোকে রাজকীয় কাউন্সিলের অধীনস্থ করেন।

বিশেষ কর্মচারী নিয়োগঃ অভিজাতদের প্রতিপত্তি হ্রাস করার জন্য রিশল্যু ইনটেনডেন্ট নামক আমলাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তারা রাজা এবং রাজতন্ত্রের প্রতি অনুগত ছিল। এই আমলাদের দায়িত্ব ছিল রাজস্ব, পুলিশ এবং বিচার বিভাগে। কার্ডিনাল রিশল্যু ফ্রান্সে ৩২ টি জেলা সৃষ্টি করেন। নব্য আমলাদের এখানে নিয়োগ দেয়া হয়।

স্টেটস জেনারেল এবং পার্লামেন্টের ক্ষমতা হ্রাসঃ রিশল্যু পূর্ণাঙ্গভাবে রাজতন্ত্রের প্রতি তীব্র অনুরক্ত ছিলেন। তাই তিনি স্টেটস জেনারেল এবং পার্লামেন্ট অব প্যারিস এর হাতে ক্ষমতা দিতে রাজি ছিলেন না। জনসাধারণকেও প্রতিনিধি পরিষদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন।

ধর্মের উপর রাজনীতির প্রাধান্যঃ রিশল্যু ক্যাথলিক ধর্মের অনুসারী এবং কার্ডিনাল হওয়া সত্ত্বেও ধর্মকে রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে স্থান দেননি। তিনি বিশ্বাস করতেন চার্চের কাজ হলো জনগণের মধ্যে একতা সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের মানসিকতা সৃষ্টি করা।

জনমত প্রভাবিতকরণঃ কার্ডিনাল রিশল্যু জনগণের চিন্তা ভাবনার উপর প্রভাব বিস্তার করার জন্য দুটি পত্রিকা চালু করেন। এগুলি হল ‘দি গেজেট‘ এবং ‘দি মার্কারি‘। এই পত্রিকা গুলোর কাজ ছিল সরকারের গুণ গান গাওয়া। এর জন্য কার্ডিনাল রিশল্যু লেখক নিয়োগ দেন।

নৌ-বাহিনী সংস্কারঃ বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য রিশল্যু নৌ বাহিনী গঠন করেন। সামরিক বিভাগে ভারসাম্যের জন্য ও নৌ বাহিনী প্রয়োজন ছিল। ইতিপূর্বে ফরাসি নৌ বাহিনী তেমন শক্তিশালী ছিল না। তার ওপর 1610 থেকে 1634 সালের মধ্যে প্রায় ২৫০০টি বাণিজ্য জাহাজ লুট হয়। কার্ডিনাল রিশল্যুর আন্তরিক প্রচেষ্টায় একটি পেশাদার নৌবাহিনী গড়ে উঠে।

সাস্কৃতিক সংস্কারঃ 1635 সালে ফরাসি একাডেমি প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে রিশল্যু ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক দিকে মনোনিবেশ করেন। এর ফলে ফরাসি ভাষা এবং সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হয়।

কার্ডিনাল রিশল্যুর বৈদেশিক নীতিঃ

অভ্যন্তরীণ সংস্কার করার পর ফ্রান্সকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বলিষ্ঠ পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ করেন। রিশল্যুর বৈদেশিক নীতি আলোচনা করো:

রাজ্যসীমা বিস্তারঃ ফ্রান্সের রাজ্যসীমা হ্যাপসবার্গ রাজবংশ দ্বারা শাসিত স্পেন এবং অস্ট্রিয়ার সীমা দ্বারা বেষ্টিত ছিল। রিশল্যু ফরাসি সীমান্ত পিরেনিজ পর্বত, রাইন এবং কোল্ট নদী পর্যন্ত বিস্তৃত করতে মনোযোগী হন। এই কাজে তার প্রধান বাঁধা ছিল স্পেন এবং অস্ট্রিয়া। ফলে এদের সাথে যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। তা সত্বেও রিশল্যু বিভিন্ন রকম কৌশল অবলম্বন করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান। রাজ্য সীমা বৃদ্ধি করলে যে কোন যুদ্ধে ফ্রান্স কৌশল কত সুবিধা পাবে। তাই রিশল্যু প্রথমেই সীমা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেন।

স্পেন এবং অস্ট্রিয়ার শক্তি হ্রাসঃ রিশল্যু তার প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী স্পেন এবং অস্ট্রিয়াকে সার্বিক দিক থেকে দুর্বল করার জন্য কূটচাল চালেন। সুইডেন এবং অস্ট্রিয়ার মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করেন। সুইডেনের শত্রু ডেনমার্ক ও পোল্যান্ড যাতে ফ্রান্সের কৌশলগত মিত্র সুইডেনকে আক্রমণ না করে সেই ব্যবস্থাও করেন। এছাড়া ইতালিতে স্যাভয়, মান্টুয়া, পার্মার সাথে মিত্রতা স্থাপন করলে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে শক্তি সঞ্চয় করেন। অস্ট্রিয়ার রাজা ছিলেন প্রকৃত রোমান সম্রাট। বোহিমিয়াতে ধর্ম বিরোধকে কেন্দ্র করে পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য দুই অংশে বিভক্ত হয়। ইউরোপে শুরু হয় ৩০ বছর ব্যাপী যুদ্ধ। স্পেন এবং অস্ট্রিয়া ক্যাথলিকদের পক্ষাবলম্বন করেন। ফলে রিশল্যু নিজে ক্যাথলিক হওয়া সত্ত্বেও শত্রুপক্ষকে দুর্বল করার জন্য প্রোটেস্ট্যান্টদের সাহায্য করেন। স্পেন উত্তর ইতালিতে ব্যস্ত থাকায় বিদ্রোহী নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে এবং রোমান সম্রাট কে সাহায্য করতে পারেনি। এতে রিশল্যুর লক্ষ্য সফল হয়।

ভল্টেলিন সংকট সমাধানঃ ভল্টেলিন নামক উপত্যকাটি ছিল সুইজারল্যান্ডের অধীনে। সুইজারল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করত ফ্রান্স। ক্যাথলিক প্রোটেস্ট্যান্ট বিরোধের সময় সুযোগ বুঝে স্পেন এই উপত্যকা দখল করে নিলে স্বাভাবিকতই ফ্রান্স হস্তক্ষেপ করে। এই উপত্যকাটি মিলান, জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডসে যোগাযোগ করার জন্য উভয় শক্তির নিকট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। রিশল্যু সামরিক শক্তি এবং কূটকৌশল প্রয়োগ করে ভল্টেলিন উপত্যকা পুনরুদ্ধার করেন।

চেরাসকো সন্ধিঃ মান্টুয়া ডাচির সিংহাসনে ফরাসী নার্ভাসের ডিউক চার্লস সিংহাসনে আরোহণ করায় রিশল্যুর প্রাক্তন মিত্র স্যাভয়ের ডিউক অস্ট্রিয়ার সাথে হাত মিলায়। অস্ট্রিয়া চার্লসকে মান্টুয়া ডাচির সিংহাসনে আরোহণ করতে বাঁধা দেয়াতে তিনি রিশল্যুর সাহায্য কামনা করেন। রিশল্যু সামরিক অভিযানের মাধ্যমে স্যাভয়ের ডিউককে মিত্রতাবদ্ধ করেন। ১৬৩১ সালের চেরাসকো সন্ধির মাধ্যমে কাসাল ও পিনেরলো দুর্গের অধিকার ফ্রান্সের হস্তগত হয়।

ত্রিশ বছর ব্যাপী যুদ্ধে রিশল্যুর নীতিঃ বোহিমিয়ার ধর্ম বিরোধকে কেন্দ্র করে 30 বছর ব্যাপী যুদ্ধ শুরু হয়। এখানে স্পেন, অস্ট্রিয়াকে দুর্বল করে তার পররাষ্ট্র নীতি বাস্তবায়নের সুযোগ পেয়ে যান। এই যুদ্ধে রিশল্যু ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস এর প্রোটেস্ট্যান্টদের ক্যাথলিকদের বিরুদ্ধে সহায়তা দেন। ক্যাথলিকরা শুরুর দিকে জয় লাভ করলে রিশল্যু সুকৌশলে ক্যাথলিক সেনাপতি ওয়েলেনস্টিন এর অপসারণ ঘটাতে সক্ষম হন। প্রোটেস্ট্যান্টরা ডেনমার্কের রাজার অধীনে পরাজিত হলে রিশল্যু সুইডেনের রাজা গুস্টাভাস এডোলফাসকে ক্যাথলিকদের বিরুদ্ধে সার্বিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। সুইডিশ রাজার সাথে এই মর্মে চুক্তি হয় যে, গুস্টাভাস এডোলফাস ক্যাথলিকদের অত্যাচার করবেন না। এর মাধ্যমে রিশল্যু স্বদেশে এটা বুঝাতে সক্ষম হন, রাজনৈতিক স্বার্থে প্রোটেস্ট্যান্টদের সাহায্য করতে গিয়ে ক্যাথলিকদের স্বার্থ নষ্ট করেননি। রিশল্যু দূরদর্শী নীতির ফলে অস্ট্রিয়া এবং স্পেন শক্তি হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়।

দেশে ক্যাথলিক বিদেশে প্রোটেস্ট্যান্টঃ

রিশল্যু ক্যাথলিক ধর্মের কার্ডিনাল হলেও বৃহত্তর স্বার্থে 30 বছর ব্যাপী যুদ্ধে প্রোটেস্ট্যান্টদের সাহায্য করেছিলেন। তার মূল লক্ষ্য ছিল স্পেন এবং অস্ট্রিয়ার হ্যাপসবার্গ শক্তিকে দুর্বল করা। বিচক্ষণ পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে রিশল্যু এতে সফল হন। এই কাজে তার অন্যতম সহযোগী ছিলেন গুস্টাভাস এডোলফাস। 1632 সালে লুটজেনের যুদ্ধে গুস্টাভাস এডোলফাসের (King of Sweden) মৃত্যু হলে অকজেনস্টিয়ানো তার কাজ চালিয়ে নেন। রিশল্যু রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে ধর্মকে স্থান দিতেন না। বিদেশে প্রোটেস্ট্যান্টদের সাহায্য করলেও স্বদেশে হিউগেনোদের (ফরাসি প্রোটেস্ট্যান্টদের হিউগেনোদের বলা হত) দমিয়ে রেখেছিলেন। তার এই দ্বৈতনীতির ফলে ফ্রান্স 30 বছর ব্যাপী যুদ্ধে জয়লাভ করে। রিশল্যু 1642 সালে মৃত্যুবরণ করেন।

মূল্যায়নঃ ফ্রান্স তথা সমকালীন ইউরোপের ইতিহাসে কার্ডিনাল রিশল্যু একজন তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী তুখোড় রাজনীতিবিদ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ফ্রান্সকে ইউরোপের শ্রেষ্ঠ প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত করে। তিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন না। এই কারণে সমালোচিত হলেও ফ্রান্সের জন্য তিনি যা করে গেছেন তা ফরাসিরা ভুলতে পারবেনা।পরিশেষে বলতে পারি, রিশল্যুর কঠোর অভ্যন্তরীণ নীতি এবং বুদ্ধিদীপ্ত বৈদেশিক নীতির ফলে ফ্রান্সে শক্তিশালী রাজতন্ত্র এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হয়ে দাঁড়ায়। একাদশ লুই, প্রথম ফ্রান্সিস এবং চতুর্থ হেনরির স্বপ্নের রাজতন্ত্র রিশল্যু প্রতিষ্ঠা করেন। রিশল্যুর মৃত্যুর পর তার যোগ্য উত্তরসূরী ম্যাজারিন ওয়েস্টফেলিয়ার সন্ধি এবং পিরিনিজের সন্ধির মাধ্যমে ফ্রান্স এর প্রভাব এবং শক্তি বহুলাংশে বৃদ্ধি করেন।

Leave a Comment